ভোলাঃ দীর্ঘ পাঁচ বছর পালিয়ে থাকার পর র্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক ও লালমোহন বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ভাস্কর চন্দ্র দাস। সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল শহরের চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধকীসংক্রান্ত লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল লালমোহন থেকে গা-ঢাকা দেন ভাস্কর। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আটটি মামলার ওয়ারেন্ট হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলার সাজাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, ভাস্কর লালমোহন বাজারে জুয়েলারি ব্যবসার পাশাপাশি ২০১২ সালে লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক পদে চাকরি নেন। এর পর থেকে লালমোহনে তার কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও স্কুলের খাতায় তিনি হাজির ছিলেন প্রায় অর্ধেক সময় ধরে। নিয়েছেন সেই সময়ের প্রতি মাসের বেতনও। ভুয়া মেডিক্যাল প্রেসক্রিপশন দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও অদৃশ্যকারণে তার বিরুদ্ধে কেউই ব্যবস্থা নেয়নি। ২০১৮ সালের মে মাসে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর তার বেতন স্থগিত হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তবে এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির জন্য ভাস্করকে নোটিশও করা হয়নি বলে জানা গেছে।
লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি বেতন লিস্টে তার নাম নেই। পাঁচ বছর অনুপস্থিতির কারণে ভাস্করকে কোনো কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ফাইল দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
লালমোহন থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, ভাস্করের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে ২০১৮ সালে একটি, ২০১৯ সালে চারটি এবং ২০২০ সালে একটি মামলা হয় এবং এসব মামলার ওয়ারেন্ট হয়। এ ছাড়া ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজা হয়।
ওসি এনায়েত হোসেন আরও জানান, ভাস্করের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে লালমোহনের বিভিন্ন লোকজন স্বর্ণ বন্ধকীকরণ সংক্রান্ত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য থানায় আসতে থাকে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/৩১/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
