মিরাজুল ইসলামঃ ২০২৩ সালে বাংলাদেশর পাঠ্যবই থেকে ডারউইনের তত্ত্ব বাদ দেওয়া সম্ভবত শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিপর্যয়। বাংলাদেশি শিক্ষিত সমাজ এখন আর মানুষ নেই, আক্ষরিক অর্থে পোষা বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এই যে দেশে এতো এতো মানুষ পুরস্কার পায়, ডিগ্রি ধারণ করে, উন্নত জীবন যাপন করে, দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে আলাপ করে, তারা সবাই ডারউইনের মতবাদ পড়েই বড় হয়েছে। তখনো ধর্ম ব্যবসায়ীদের হুংকার ছিলো। কিন্তু জ্ঞানার্জনের মৌলিক বিষয় নিয়ে এভাবে পেছন ফিরে কোনো প্রজন্ম হাঁটেনি। এবছর উঠলো নবম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে ‘শরীফ থেকে শরীফা’ রচনা নিয়ে হিজড়া বনাম ট্রান্সজেণ্ডার ইস্যু। এই বিতর্কের সূত্রপাত করলো উচ্চ শিক্ষিত অংশের একজন প্রতিনিধি।
অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলো পাঠ্যপুস্তক থেকে লেখাটি সরিয়ে ফেলতে। ঘুরে ফিরে জয় হলো নৌকার। রক্ষা পেলো গণতন্ত্র। আমরা বেকুব প্রজন্ম কোনোদিন জানবো না, কেন বা কারা ‘আলোচিত/বিতর্কিত’ বিষয়গুলো বারবার শিক্ষা কারিকুলামে ‘সাপের বিষ’ হিসেবে দংশন করিয়ে আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ে। মাঝে প্রচুর আম আদমীর নৈতিক এবং ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার সুযোগ ঘটে। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এই অপরাজনীতি ঠেকাতে পারতো কেবল আওয়ামীপন্থী সাহসী বুদ্ধিজীবীগণ। কিন্তু তারা এখন কোথায়?
লেখকঃ চিকিৎসক
মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
