এইমাত্র পাওয়া

বশেমুরবিপ্রবির ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

গোপালগঞ্জঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) তিন বিভাগের মোট আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে হাইকোর্টের নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী ‘তাদের কেন বহিষ্কার করা হবে না’ এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবার চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হলো।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে গত ৫ নভেম্বর ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রনি মৃধা এবং ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসাইন্স (এফএমবি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল আহমেদ সাকিবকে আজীবন বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকা ফার্মেসি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু হেনা, চতুর্থ বর্ষের রাতুল হাসান রুমান এবং এফএমবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাগরকে ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

অন্যদিকে পরীক্ষার শেষে অতিরিক্ত উত্তরপত্র চুরি করে বাড়ি থেকে উত্তর লিখে এনে অফিস সহায়কের মাধ্যমে মূল খাতায় সেসব কাগজ সংযুক্ত করার অপরাধে মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রেহানা আক্তার, লিওন সিকদার ও শিহাব ইসলামকে ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের কেন বহিষ্কার করা হবে না সে মর্মে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের নোটিশ প্রদান করা হয়। সে সময়ে একই নোটিশে মারামারি ঘটনার ভুক্তভোগী এফএমবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন ও তার পরিবারকে তার আত্মহত্যার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও প্রক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের তদন্তে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাছাড়া তাদের দেওয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের জবাব সন্তোষজনক ছিল না।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সাত কর্ম দিবসে আত্মপক্ষ সমর্থনের নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা প্রদানে যথেষ্ট বিলম্ব করে। তাছাড়া তাদের উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় ও দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আইন অমান্য করলে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল না থাকায় তাদের প্রতি আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, পরবর্তীতে আমাদের শিক্ষার্থীরা আরো সচেতন হবেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.