ঢাকাঃ শিক্ষাক্রম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, যারা উগ্রবাদী জনগোষ্ঠী, তারা চায় না আমাদের শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীল ও অগ্রসরমুখী কারিকুলামে যাক।
সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্রিডম অব স্পিসের জন্য যেখানে অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হয়, কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হচ্ছে না উগ্রবাদী, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর জন্য?
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে ‘টেকসই শান্তির জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা ও সূচনা বক্তব্য দেন রাশেদা কে চৌধুরী।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী। অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের বক্তব্য দেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, একটা প্রশ্ন রাখছি সবার কাছে, ইনক্লুডিং মিডিয়া। যখন এটা দুই মাসের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া ছিল, তখন কেন আপনারা বক্তব্য-মতামত দেননি? আমরা বিশদ মতামত দিয়েছি এনসিটিবির কাছে এবং সেটা ম্যাট্রিক্স আকারে দেওয়া হয়েছে। এটা আছে প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে এটা থাকা দরকার, এটা রাখা যেতে পারে, এটা বাদ দেওয়া যেতে পারে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান থাকলে আজ বলতে পারতেন ৭০ শতাংশ সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। আমরা অনেক কন্সাল্টেশন করেছি কাজী খলিফুজ্জমানের নেতৃত্বে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে শিক্ষাক্রম সংস্কারের প্রস্তাব গিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পানি ঘোলা করা হচ্ছে নানাভাবে। কারা করছে, সেটাও আমাদের কাছে চিহ্নিত। একটা চিহ্নিত জনগোষ্ঠী, যারা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, যারা কোচিং বাণিজ্যের ধারক-বাহক, যারা উগ্রবাদী জনগোষ্ঠী এবং যারা চায়না আমাদের শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীল ও অগ্রসরমুখী কারিকুলামে যাক।
এটার মধ্যে অনেক দুর্বলতা আছে উল্লেখ করে রাশেদা বলেন, কিন্তু এটার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেভাবে ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে, ভুল তথ্য দিয়ে ভারতের ভিডিও দিয়ে বলা হচ্ছে যে এটি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা কেন এগুলো বিশ্বাস করবো?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যহারের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, একটা দাবি করবো, ফ্রিডম অব স্পিসের জন্য যেখানে অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হয়, এদের জন্য কেনও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হচ্ছে না?
ওই দুই মাস তারা কী করেছিলেন? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভুল থাকতেই পারে যেকোনও কারিকুলামে, সেটি বিবেচনা করা যেতে পারে। শিক্ষাক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, সেটা সংশোধন করা যেতেই পারে। কিন্তু ক্যাম্পেইন করে কারও কোনও লাভ হবে না। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেগে উঠেছেন, ওই দুই মাস তারা কী করেছিলেন? ঘুমিয়েছিলেন? ভুলত্রুটি থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য আমরা প্রস্তাব করতে পারি।
রাশেদা কে চৌধুরী আরও বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশ নিয়েছেন, তারা ‘মিডিলক্লাস’ মানসিকতার। আমরা গ্রামেগঞ্জে গিয়ে দেখেছি কেউ তো বলছে না শিক্ষাক্রমটা খারাপ। একটু ভীতসন্ত্রস্ত যে শিক্ষকরা পড়াতে পারছেন না। কিন্তু এটা ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ স্থানীয়ভাবে দেখিনি।
প্রসঙ্গত, নতুন কারিকুলামে সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা অধ্যায়ের ‘শরীফার গল্প’ এর দুটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আসিফ মাহতাব উৎস। গত ১৯ জানুয়ারির এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
