এইমাত্র পাওয়া

গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়: সভাপতির একক আধিপত্য, ভয়ে থাকেন শিক্ষকরা!

ঢাকাঃ রাজধানীর গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (মাউশি)। ওই নির্দেশের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা দেয়নি জেলা প্রশাসন।

এদিকে মাউশিতে অভিযোগ করার কারণে হুমকি দেয়া হচ্ছে দাবি করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, গেণ্ডারিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গত বছরের ৩১ জুলাই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাউশি বরাবর একটি অভিযোগপত্র দেন। এতে বলা হয়, গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে (একক প্রার্থী) নির্বাচিত হন মো. মাহবুবুর রহমান মিশু। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আর্থিক অনিয়ম করছেন। এ ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক, অর্থ উপকমিটি ও শৃঙ্খলা উপকমিটির কোনো সুপারিশ আমলে নিচ্ছেন না।

অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষকের বরাতে বলা হয়, ‘নানা সময়ে কারণে-অকারণে সভাপতি আমাকে গালি-গালাজ করেন। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদেরও হুমকি-ধমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, সভাপতি সরকারি কোনো নিয়মই মানছেন না। মাউশি কর্তৃক এ স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সাথী আক্তারকে পুনরায় যোগদানের আদেশপত্রও তিনি আমলে নেননি। এমনকি সে চিঠি প্রধান শিক্ষকের হাতে পর্যন্ত দেননি। নানাভাবে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে মাউশি বিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে গত ১৩ আগস্ট একটি চিঠি দেয়। জেলা প্রশাসক গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যাকে দায়িত্ব দেন। তিনি ৩ অক্টোবর শুনানি করেন। সরেজমিন স্কুলের এসে তদন্তও করেন। তবে এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি।

মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে দেরি হয়েছে। আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে দেব।

এদিকে মাউশিতে অভিযোগ দেয়ার কারণে হুমকি দেয়া হচ্ছে দাবি করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান মিশু গণমাধ্যমকে বলেন, উনার তো প্রধান শিক্ষক হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই। প্রতিষ্ঠানটি আমার লস প্রজেক্ট। এভাবে তো প্রতিষ্ঠান চলতে দেয়া যায় না।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.