এম মামুন হোসেন।।
নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা বদলে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন রূপরেখা। আসছে আমূল পরিবর্তন। এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত একমুখী এ শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। তবে এ জন্য প্রয়োজন মানসম্মত পাঠ্যবই, প্রশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষক। এর সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে শিক্ষায়। আর নতুন সংযোজন করতে হবে বিস্তর গবেষণা। সব মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষার প্রত্যাশা সবার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এসেছেন নতুন মন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন রুমানা আলী। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই নতুন শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রমে বেশকিছু পরিবর্তন আসছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট যত দক্ষতা আছে, সেগুলো আমরা আমাদের কারিকুলামে নিয়ে আসতে চাই। এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে নিজেদের শিক্ষা বিষয়ে পরিকল্পনা সাজাতে পারবে।
নতুন শিক্ষাক্রমে অনেক কিছুই সংযোজন করা হয়েছে। শিশুর মানসিক বিকাশ, চরিত্র গঠন, সৃষ্টিশীলতা, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ইত্যাদি শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। গ্রাম আর শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। হাতে-কলমে শেখাতে গেলে উপকরণ প্রয়োজন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা সমানভাবে সরবরাহ করা বড় চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিক মূল্যায়নে দুর্নীতি এবং এর ফলে কোচিং ব্যবসা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন করা না হলে কোচিং ব্যবসা আরও জমজমাট হচ্ছে। এক পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন করা না হলে কোচিং ব্যবসা আরও জমজমাট হবে!
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সবচেয়ে জরুরি মানসম্মত শিক্ষকের। এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে শিক্ষায় বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) পরামর্শ হচ্ছে, একটি দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। তবে চলতি অর্থবছরে বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির অনুপাত ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে নিয়মিত আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির সব শিক্ষকের দাবি আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে বরাদ্দ অনেকগুণ বাড়ানো দরকার। শিক্ষা সস্তায় দেওয়া যায় না। মানসম্মত শিক্ষার জন্য গ্রন্থাগার দরকার, গবেষণাগার দরকার। উন্নত গবেষণা হচ্ছে না। গবেষণার জন্য বরাদ্দ অপ্রতুল, যা দিয়ে গবেষণা করা যায় না। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক স্তর থেকেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থহীন। বঙ্গবন্ধু সরকারের করা কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ ছিল শিক্ষা বাজেটের ৬৫ শতাংশ প্রাথমিক স্তরে, ২০ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ১৫ শতাংশ উচ্চশিক্ষার জন্য বরাদ্দ করা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
