বাগেরহাটঃ জেলার ফকিরহাটে দুই কলেজছাত্রীকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ফকিরহাটের জাড়িয়া এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা শাকিলকে (২৫) গ্রেপ্তার করলেও অপর আসামি মেহেদী হাসান (২০) পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শাকিল সরদার ফকিরহাট উপজেলার জারিয়া-চৌমাথা এলাকার মোস্তাব সরদারের ছেলে।
এর আগে গত শনিবার রাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই দুই কলেজছাত্রী রবিবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় ওই দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। অন্য আসামি মেহেদী হাসান একই এলাকার সেখ মাসুমুল হকের ছেলে। ধর্ষণের শিকার ওই দুই ছাত্রী খুলনা সরকারী সুন্দরবন কলেজের শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে দুই বান্ধবী তাদের চাচাতো ভাই ও তার বন্ধুর সঙ্গে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঘুরতে যায়। পরে রামপাল থেকে রাত ১১টার সময় বাগেরহাট খানজাহা মাজারে আসে। পরে আনুমানিক রাত ১২টা ১০ মিনিটে তারা দুটি মোটরসাইকেলে বাগেরহাট থেকে খুলনার দিকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে ফকিরহাটের জাড়িয়া চৌমাথা এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দিলে তারা দাঁড়িয়ে যায়। এ সময়ে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ও মেহেদী হাসান গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে থাকা তরুণীর ওড়না টেনে ধরে। এতে ওই কলেজ ছাত্রী ও তার বন্ধু রাস্তার ওপর পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে অন্য মোটরসাইকেলের চালক ও কলেজ ছাত্রী মোটরসাইকেল থেকে নেমে যায়। মোটরসাইকেলের ছাত্রী ও তাদের বন্ধু কোন কিছু জানতে চাওয়ার আগেই শাকিল ও মেহেদী তাদেরকে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রীদের সঙ্গে থাকা এক তরুণ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। শাকিল ও মেহেদী তাদের কাছে থাকা নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে শাকিল ও মেহেদী ওই ছাত্রীদের পার্শ্ববর্তী স্বপন দেবেনাথের চায়ের দোকানের ভিতরে নিয়ে যায়। একজনকে চায়ের দোকানের বেঞ্চির ওপর এবং অন্যজনকে পাশ্ববর্তী প্রশান্ত ব্যানার্জির সেড দোকানের পিছনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ধর্ষণকারীরা দুই ছাত্রী ও তরুণকে পার্শবর্তী জারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে পরে তাদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরমধ্যে আগে পালিয়ে যাওয়া তরুণ ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়ে সাহায্য চায়।
ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, গভীর রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ধর্ষণের শিকার দুই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে। শাকিল সরদার ও মেহেদী হাসা কে আসামি করে রবিবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে শাকিল সরদার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল সরদারকে হাজির করা হলে বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
