শেরপুরঃ নিয়োগ বাণিজ্য, কলেজের এমপিও শিক্ষকের ব্যানবেইজ পরিবর্তন, কলেজের জমি ক্রয়, মাটি ভরাট ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়ে নয়ছয় করে কোটিপতি বনে গেছেন শেরপুর নিজাম উদ্দিন আহম্মদ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ।
ইতোমধ্যে তিনি এসব অনিয়মের মাধ্যমে উপার্জিত টাকায় শহরে করেছেন বাড়ি এবং বেশ কিছু জমিও ক্রয় করেছেন। গত ১০ জানুয়ারি অধ্যক্ষের হিসাব গরমিল করে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে কলেজের পাঁচ প্রভাষক জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এর কিছুদিন আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় মোহাম্মদ হাসান নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু এ অভিযোগের বিষয়ে আজও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই ১০ জানুয়ারি কলেজের পাঁচ প্রভাষক মোহাম্মদ মুক্তারুজ্জামান, এসএম শওকত হাসান, মোস্তাক আহমদ, মো. উকিল মিয়া ও রীতেশ কর্মকার যৌথভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে কলেজের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য এবং নানা বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয় ২০১১ সালে এবং তখন থেকে তার নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত আটজন অধ্যক্ষ ছিলেন, তাহলে তিনি কীভাবে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কলেজে ২০১৮ সাল থেকে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে অদ্যাবধি অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন হিসাব যেমন-পরীক্ষা, ভর্তি, ফরম পূরণ, টিউশন ফি, ছাত্রীদের বেতন ইত্যাদির কোনো হিসাব প্রকাশ করেননি। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বেই রেজুলেশন খাতায় সবার স্বাক্ষর আদায় করে নিজের মতো করে রেজুলেশনে হিসাব বসান। তিনি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য তাদের আবেদনের ভেতর নিজের কর্মরত আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের শিক্ষক-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করেন এবং উপবৃত্তির টাকা এলে ওই টাকা তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি অগ্রণী এজেন্ট ব্যাংক, চৈতনখিলা শাখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে হিসাব খুলিয়ে অভিনব কায়দায় উপবৃত্তির টাকার একটি অংশ আদায় করছেন। যদি তার কাছে হিসাব চাওয়া হয় তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি এমনকি চাকরিচ্যুত করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ২০২২ সালে এমপিও ঘোষণা হওয়ার পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও বাবদ প্রায় ৩২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যানবেইজের তথ্যে নাম না থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। টাকা না দিলে এমপিও ফাইল সাবমিট করা হবে না এমন ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন এমনকি যারা টাকা প্রদান করতে অসমর্থ ছিলেন তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষরকৃত ব্লাংক চেক আদায় করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষকদের হয়রানি করার জন্য ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। জেলার প্রভাবশালী ও শীর্ষ ব্যক্তি তার আত্মীয় হওয়ায় তিনি এসব কাজ দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে করে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী অনেকেই জানান। তার বিরুদ্ধে কলেজের কোনো শিক্ষক-কর্মচারী মুখ খুললেই তার ওপর নেমে আসে নানা হুমকি-ধমকি। এমনকি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও কেউ মুখ খুলছেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘আমি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করিনি।’ এছাড়া তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ দাবি করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের বিষয়ে ডিজি অফিস এবং জেলা শিক্ষা অফিস পরিদর্শন করে দেখেছে কীভাবে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হয়েছি। এসব নীতিমালা অনুযায়ী।’
শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, ‘অভিযোগটি আমি পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে।’ যুগান্তর
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
