এইমাত্র পাওয়া

স্থগিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের না জানিয়ে ৪ পদে নিয়োগ দিলেন সুপার-সভাপতি

সিরাজগঞ্জঃ  মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ৪ টি পদে চার জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের গোন্তা আলিম মাদ্রাসার সুপার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে গোন্তা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান জানান, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতির নির্দেশে উপাধ্যক্ষ পদে মো. আইবুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে সেলিম রেজা, নিরাপত্তা কর্মী পদে সাগর আহমেদ ও আয়া পদে স্বপ্না খাতুনকে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার তালম ইউনিয়নের গোন্তা আলিম মাদ্রাসায় গত বছরের ২১ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালীন অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুুলে দুই পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় পরীক্ষাকক্ষে চাকুরি প্রার্থী ফাঁসিতে ঝোলার চেষ্টা করেন। অন্যজন বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া জিয়া মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ঘটনার জনসাধারণের চাপে ডিজির প্রতিনিধি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আবু নাইম নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে চলে যান।

কিন্তু এর তিন পরেই মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির মো. আতিকুর রহমান নিয়োগ কমিটির কতিপয় সদস্যেদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ওই চারটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেন। পরে ওই চার ব্যক্তির এমপিও করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করলে বিষয়টি অন্যান্য চাকরি প্রার্থীদের নজরে আসে।

এ বিষয় সম্পর্কে আয়া পদের চাকরি প্রার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বেই ২০২০ সালে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান আমার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়েছে। নিয়োগের জন্য টাকা দেওয়ায় আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়েছেন। এখন অন্যজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে বাদ দিয়ে স্বপ্নাকে নিয়োগ দিয়েছে। অনুরূপ অন্য তিনটি পদে একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান, নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদনকারী জয় ইসলাম।

অথচ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে আবেদনকারী আব্দুল হান্নান, ঠান্ডু রহমান নিরব, হাদিউল ইসলাম, আরমান সরকার, ওমর ফারুক জানান, আমাদেরকে কোনো প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। কবে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে তাও জানি না। অথচ চারটি পদে নিয়োগ পাওয়াদের বিল বেতন করতে সংশ্লিট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এতে আমরা নিয়োগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা এ ধরনের জালিয়াতির নিয়োগ বাতিলসহ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দানের জন্য দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা কয়েকজন চাকরি প্রার্থী মামলা করার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অবশ্য, নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি শনিবার গোন্তা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বোর্ড ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশে ওই চার পদের নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অপর দিকে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, স্থগিতের কয়েকদিন পরই ওই ৪টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছি। তবে চাকরি প্রার্থী আবেদনকারী অন্যান্যদের নিয়োগের সময় কেন ডাকা হয়নি এ বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দেন।

আর তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস ছালাম বলেন, নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আবু নাইমকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০১/২০২৪  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায় 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.