ঢাকাঃ রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন আট লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখ সদস্য। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন ৬৬ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯২ জন এবং প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ১৪৯ জন।
নির্বাচনে তাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশনের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সবচেয়ে উপরের পদ রিটার্নিং অফিসার। এরপর রয়েছেন যথাক্রমে সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার।
রিটার্নিং অফিসার
জাতীয় নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে আছেন ৬৪টি জেলার ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইজন বিভাগীয় কমিশনার। ঢাকা ও চট্টগ্রামে আসন সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুইজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসাররা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই, মনোনয়ন বাতিল, প্রার্থীর বৈধতা কিংবা প্রতীক বরাদ্দ –পুরো ভোট প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন যেসব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে রিটার্নিং অফিসারদের ওপর। এছাড়া প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা তৈরি ও ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের দায়িত্বও তাদের।
আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা ভোটার বা নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করার প্রমাণ পেলে কারণ দর্শিয়ে ওই ব্যক্তি যেই হোক না কেন- তাকে প্রত্যাহার করা এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশের এখতিয়ার থাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার।
এছাড়া নির্বাচন শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল একসঙ্গে করে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার
রিটার্নিং অফিসারের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। সাধারণত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও’দের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
দ্বাদশ নির্বাচনে মোট ৫৯০ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মধ্যে ৪৯৩ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও ৫৬ জন উপজেলা নির্বাচন অফিসার, ১৪ জন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, ৮ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ১১ জন জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার, পাঁচজন ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, দুইজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং একজন সার্কেল অফিসার উন্নয়নকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারকে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তা এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার কারা হবে, ভোটের দায়িত্ব কারা পালন করবে- এ ধরনের তালিকা তৈরিতে রিটার্নিং অফিসারকে সাহায্য করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার।
প্রিসাইডিং অফিসার
এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ২৪টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ৪২ হাজার ২৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন।
সাধারণত প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে পান সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত/আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তারা। এছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তারাও প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রিসাইডিং অফিসার যেহেতু কেন্দ্রের মূল দায়িত্বে থাকেন, নির্বাচনের আগের রাত বা নির্বাচনের দিন ভোর থেকেই তার কাজ শুরু হয়। ব্যালট বাক্স, কাগজ, কালি, সিলসহ নানা নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব থাকে প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর। তিনি কোনো ভোটকক্ষে উপস্থিত থাকেন না। সার্বিক কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকে তার ওপর।
পরদিন ভোটের সময় আলাদা কক্ষের জন্য সরঞ্জাম বণ্টন এবং প্রস্তুতির নেতৃত্ব দেন তিনি। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে এবং একইসঙ্গে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তিনি।
নির্বাচন শেষে ব্যালট বাক্স, কাগজ, সিল, কালিসহ সব নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপত্তার সঙ্গে সিলগালা করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেন প্রিসাইডিং অফিসার।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার
ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষের দায়িত্বে থাকেন একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। তিনি মূলত প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে কাজ করেন এবং তাকে সাহায্য করেন। বরাদ্দকৃত কক্ষে পোলিং অফিসারসহ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বসেন এবং কোনো ভোটার কেন্দ্রে ঢুকলে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
এছাড়া ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বক্স নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে ভোট গণনার কাজও করেন তারা।
পোলিং অফিসার
প্রত্যেক ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে দুইজন পোলিং অফিসার থাকেন। তার কাজ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে সহায়তা করা। তাদের কাজই থাকে ভোটার তালিকা দেখে ভোট দিতে আসা ভোটারদের শনাক্ত করা।
এসময় উচ্চস্বরে ভোট দিতে আসা ব্যক্তির নাম বলেন পোলিং অফিসার।
যদি কোনো পোলিং এজেন্ট আপত্তি না করেন তবে পোলিং অফিসার ওই ব্যক্তির হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে দাগ দিয়ে দেন। যাতে সহজে ভোট দানকারীকে চিহ্নিত করা যায়।
পোলিং এজেন্ট
পোলিং এজেন্ট হচ্ছেন প্রার্থীর প্রতিনিধি। নির্বাচনের সময় ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি ভোটকক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীর একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন, যাকে বলা হয় পোলিং এজেন্ট।
পোলিং এজেন্টদের অবশ্যই স্থানীয় হতে হয়। তারা পোলিং অফিসারদের ভোটার শনাক্তে এক প্রকার সাহায্য করে থাকেন।
আগে থেকেই প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে পোলিং এজেন্টদের নাম ইস্যু করিয়ে রাখতে হয়।ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার নির্দিষ্ট ফর্মে পোলিং এজেন্টের নাম লিপিবদ্ধ করেন এবং ভোটগ্রহণের পুরো সময় তিনি ভোটকক্ষে উপস্থিত থাকেন।
আর ভোটগ্রহণের আগে ব্যালট বাক্স যে খালি আছে, সেটাও পোলিং এজেন্টদের দেখাতে হয়। আবার ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গোনার সময়ও পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন। গণনা শেষে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন সেই ফলাফল বিবরণীতে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরের পরই তা টাঙিয়ে দেয়া হয়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০১/২০২৪
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
