এইমাত্র পাওয়া

পাংগাশিয়া বালিকা বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!

মো. রিয়াজুল ইসলাম, জেলা প্রতিবেদক, পটুয়াখালীঃ জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রতিটি রাষ্ট্র ও জাতির স্বকীয়তার প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক। জাতীয় সংগীত ও পতাকা অবমাননাসহ একের পর এক পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলার পাংগাশিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।

উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ সোহরাব হোসেনসহ অধিকাংশ শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৈনন্দিন এসেম্বলীতে অনুপস্থিত থাকা, পক্ষপাতমূলকভাবে ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক শাহাদাত হোসেনকে দিনের পর দিন অনুমোদনহীন ছুটি প্রদান করে পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেয়া, নূতন শিক্ষক যোগদানকালে মোটা অংকের টাকা দাবি করা, জনৈক শিক্ষকের ছুটির আবেদনপত্র ছিড়ে ফেলাসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচার-আচরণ করা, শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে টাকা উঠিয়ে খরচের হিসাব চূড়ান্ত না করা, পর পর ৩ বার নির্বাচন বাতিল হওয়ায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করাসহ বিদ্যালয়ের কোন আয়-ব্যয়ের হিসাব না রাখা যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টম্বর এসএসসি পরীক্ষার হলে কেন্দ্র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্বপালন কালে বাংলা পরীক্ষার এমসিকিউ পরীক্ষার ও এমআরশীট ভরাট করে দেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারী মামলা হয়।ওই মামলার কারনে তিনি বিদ্যালয়ে প্রায় দু’মাস অনুপস্থিত থাকলেও বেআইনিভবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, এই প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক কার্যকলাপে আমরা অতিষ্ঠ। কিন্তু তার অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ভুলবোঝাবুঝির জন্য এ রকম ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আমি লিখিত জবাব দিয়েছি, আশা করি অতিদ্রুত এ বিষয়ের সমাধান হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের কাজ প্রায় ৭০% শেষ হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

প্রসঙ্গত, এসব বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরানের বরাবরে চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। তিনি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এ ছাড়াও শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ নভেম্বর তদন্তে আসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ মুজিবুর রহমান।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/১২/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.