গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের কুকর্মের নথি সংগ্রহ করে দুদকে আনা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শেষে সোমবার এক বস্তা নথি নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রায় মাসব্যাপী চলা এই অনুসন্ধানে বহিষ্কার হওয়া এই ভিসির নান কুকর্ম বেড়িয়ে এসেছে। শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয় এর বাহিরেও অনেককে সামাজিক ও শারীরিক নির্যাতনের মত বিষয় বেড়িয়ে এসেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সাথে স্বেচ্ছাচারিতা মূলক ব্যবহার ও তার কথামত না চললেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতো।
তদন্তকারী দুদকের কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই ভিসি তার নিজ বাড়িতে কর্মরত কাজের মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে এর ফলে সেই নারী গর্ভবতী হয়ে যায়। তার গর্ভে থাকা বাচ্চাকে প্রথমে নষ্ট করার অনুরোধ করেন ভিসি। পরে সেই নারী বাচ্চার বাবার দাবিতে একাধিকবার ভিসির কাছে গেলে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। পরবর্তীতে সেই নারী মামলা করার ভয় দেখালে তাকে টাকার টাকা নিয়ে মীমাংসা করতে বলে। কিন্তু তাতেও রাজি হয় নাই সেই নারী। পরবর্তীতে তাকে চাকরির লোভ দেখায় ভিসি। এতে কিছুটা মন গললেও সেই নারী বেঁকে বসে। সে দাবী করে শুধু তার একা চাকরি দিলে হবে না সাথে তার স্বামীকেও চাকরি দিতে হবে। অবশেষে সেই বাচ্চা পৃথিবীর আলো দেখে এবং বর্তমানে সেই বাচ্চার বয়স প্রায় এক বছর। সেই বাচ্চা এখন সেই নারীর স্বামীর পরিচয়ে বড় হচ্ছে। সেই যাত্রায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাকরি দিয়ে নিজের কুকর্ম দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
এ রকম আরো শত শত অনিয়মের অভিযোগ আসছে এই ভিসির বিরুদ্ধে। দুদক কর্মকর্তারা জানান, এখন আমরা সব অভিযোগ আলাদা করে কমিশনের কাছে জমা দেব। এর পরের কাজ কমিশন দেখবে। আশা করছি খুব অল্প দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করে তাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য দুদকে তলব করা হতে পারে। এরপরে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নামে নিয়ম অনুযায়ী মামলা হবে।
উল্লেখ্য, একটি ফেসবুক পোস্টের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ওই শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ওই ছাত্রীকে বকাঝকা ও হুমকি-ধমকি দিতে শোনা যায় উপাচার্যকে। মেয়েটির বাবাকে নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।
এই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে উপাচার্যের সমালোচনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হয়। বিক্ষোভের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৪টি বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়, যার মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার না করা, অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান না করা এবং ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনসহ আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এ আন্দোলন ঠেকাতে ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদ করলে একদল বহিরাগত হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে আহত করে।
ওই হামলার জন্য উপাচার্যকে দায়ী করে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী প্রক্টর। এদিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও চলছিলো। শেষ পর্যন্ত উপায়ন্তর না দেখে পদত্যাগ করে রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাস ছাড়েন ভিসি নাসির।
সাবেক এই ভিসি নাসির উদ্দিনের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতাশিয়া গ্রামে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া সেখানেই বায়ো টেকনোলজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। নাসির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় ছাত্রদল করতেন এবং পরে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত পন্থি শিক্ষকদের প্যানেল সোনালী দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
