এইমাত্র পাওয়া

পিইসি পরীক্ষায় কলেজছাত্র

রাজশাহীতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে ভাড়া করা ৬০ শিক্ষার্থী ধরা পড়েছে। টাকার বিনিময়ে দুটি আনন্দ স্কুলের হয়ে তাদের পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে ধরা পড়া শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বীকারও করেছে যে তারা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ জন্য তাদের টাকা দেওয়ারও কথা ছিল। এদের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীও রয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসে এই ভুয়া শিক্ষার্থীরা ধরা পড়েছে। তারা রাজশাহী নগরের কয়েরদাড়া আরবান সস্নাম আনন্দ স্কুল ও মালদা কলোনি আরবান সস্নাম আনন্দ স্কুলের নামে পরীক্ষা দেয়।

এই দুটি স্কুলের ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ জন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তারা টাকার বিনিময়ে আনন্দ স্কুলের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। ওই স্কুল দুটির শিক্ষকরাও স্বীকার করেছেন যে প্রকল্প চালু রাখতে ভুয়া পরীক্ষার্থী দেখানো হয়েছে। ওই শিক্ষকরা জানান, আনন্দ স্কুল সাধারণত ঝরে পড়া বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই এলাকায় ঝরে পড়া বাচ্চার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তারা স্কুল টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে এসে পরীক্ষা দেওয়ার আয়োজন করেন।

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজা নাসরীন জানান, তিনি গত বৃহস্পতিবারই বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষকদের এ বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গতকাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, একটি মেয়ের প্রবেশপত্রে কোনো ছবি নেই। তাকে বাইরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করা হলে সে স্বীকার করে যে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আনন্দ স্কুলে শিক্ষার্থী কম তাই তাকে ওই স্কুলের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। সে জানায় তার মতো আরও অনেকেই আছে।

অধ্যক্ষ জানান, দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ করে আনন্দ স্কুলের বাচ্চাদের আলাদা করা হয়। তাদের ভেতর থেকে একদমই ছোট এবং যারা বড় তাদের দুই ভাগ করা হয়। বড়দের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তারা স্বীকার করে যে তারা বাইরের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কলেজে পড়া শিক্ষার্থীও রয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ বাচ্চা হিসেবে আনন্দ স্কুলে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সের বাচ্চারাও পড়তে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য স্কুল থেকে শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

তিনি জানান, ওই ৬০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। কোন বাচ্চা কোন শিক্ষকের মাধ্যমে এসেছে তাও তারা লিখেছে। সেখানে তারা নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করেছে। এ রকম একজন শিক্ষার্থী জানায়, সে নগরের কোর্ট কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা দিনমজুর। এই পরীক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে তাকে ৫০০ টাকা দিতে চাওয়া হয়েছে।

গতকাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই বাচ্চাদের আলাদা করে বসিয়ে রাখা হয়। বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহীর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লাইলা তাসলিমা নাসরিন ওই কেন্দ্রে যান। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাচ্চাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আনন্দ স্কুলের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা লিখিতভাবে আনন্দ স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। আর ভুয়া পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হবে।

আনন্দ স্কুলের কর্মসূচি তত্ত্বাবধায়ক আলমগীর আলম বলেন, এই পিইসির আগেই তিনি ১০০ ভুয়া শিক্ষার্থী বাদ দিয়েছেন। আরও শিক্ষার্থী ভুয়া দেখানো হয়েছে এটা তিনি জানতেন না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.