সোহেল রানাঃ বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন শুরু হয় ২০২২ সালে। এ রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন মহলে উৎসাহ দেখা গেলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে একটি শ্রেণির মধ্যে বিরূপ মনোভাব দেখা যায়। চলতি বছর চালু হয় নতুন শিক্ষাক্রম। প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি দিয়ে শুরু হয়েছে এর যাত্রা। আগামী বছর তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম এবং নবম শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে। ২০২৫ সালে যুক্ত হবে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি। ২০২৬ সালে একাদশ এবং ২০২৭ সালে যুক্ত হবে দ্বাদশ শ্রেণি।
নতুন শিক্ষাক্রম নিঃসন্দেহে সম্ভাবনাময়। তবে তার বাস্তবায়ন মোটেও সহজসাধ্য নয়। তবে মুশকিল হয়েছে শিক্ষকদের নিয়ে। তারা এই শিক্ষাক্রম ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছেন না। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রতিবেদনমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক, কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত মিলিয়ে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫৮টি। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৬ জন। শিক্ষার্থী ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪৫ জন। এই হিসাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত হয়ে যায় ১:৩৯ জন। আবার ২০ হাজার ৬০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৩ জন; শিক্ষক ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৫ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিক স্তরে সারাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪২ জন। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে গতানুগতিক ধারার শিক্ষাতেই কার্যকর শ্রেণি ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। সেখানে নতুন শিক্ষাক্রমের একীভূত শিক্ষা ও সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা নিশ্চিত তো আরও দুরূহ।
গত ৯ মাসের বিভিন্ন জরিপ বলছে, গ্রামের স্কুলগুলোতে এই শিক্ষাক্রম তেমন সফল হয়নি। অনেকে বলবে, হয়তো দেশের এই শিক্ষাক্রম ফিনল্যান্ডের মতো, যা বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে একদিন পরিচিতি লাভ করবে। বাস্তবতা একদম ভিন্ন। কেননা, ইউনেস্কো ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছে। এক রিপোর্টে দেখা গেছে, দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা আমেরিকা, ব্রিটেনকেও অনেক সময় হার মানায়। ফিনল্যান্ডে স্কুলের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। সব স্কুলই সমান। যে কোনো স্কুলে যে কোনো ছাত্রছাত্রীকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো হয়। ফিনিশীয়রা মনে করে, প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। এ দেশে বেসরকারি স্কুলের কোনো অস্তিত্বই নেই। ফিনিশীয় শিক্ষকরা পৃথিবীর যোগ্যতম এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্যে প্রথম সারিতে। অথচ বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। অতএব নজর দিতে হবে শিক্ষকের দক্ষতায়।
সোহেল রানা: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
