আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়: জালিয়াতিতে ভরা হিন্দু ধর্ম শিক্ষক শিপ্রার নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ হিন্দু ধর্ম শিক্ষক বিদ্যামান, নেই পান্ডিত্যের সনদ তবুও হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (হিন্দু) শিপ্রা রানী রায়। ২০০৫ সালে নিয়োগ পেলেও একই বিষয়ের শিক্ষক বিদ্যমান থাকায় ২০১০ সালে তিনি এমপিওভুক্তি হন।

১৯৯৫ সালের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাধিক হিন্দু ধর্ম শিক্ষক প্রাপ্যতা নেই, হিন্দু শিক্ষক হতে হলে অবশ্যই স্নাতক ২য় শ্রেণিসহ পান্ডিত্যের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।

শিক্ষাবার্তা’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) শিপ্রা রানী রায়  ৬ মার্চ ২০০৫  তারিখে নিয়োগ  পেয়ে ৮ মার্চ ২০০৫ তারিখে যোগদান করেন। ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি দৈনিক স্বদেশ সংবাদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বাস্তবে এই পত্রিকা সে সময়ে কোন অনুমোদন ছিল না যা পত্রিকা অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  তিনি যে সময়ে যোগদান করেন সে সময়ে স্কুলটিতে হিন্দু ধর্ম শিক্ষক ছিলেন বিধান চন্দ্র রায় যার ইনডেক্স নম্বর ১৬৫৫৭২। শিপ্রা রানীর নিয়োগ পত্রে দুইটি শর্ত উল্লেখ করা হয়। ১. নিয়োগপত্র প্রাপ্তির পাঁচ বছরের মধ্যে আদ্য, মধ্য, কাব্য পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ২. এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্কুল হতে বেসরকাঈ বেতন প্রদান করা হবে না (নিয়োগ বিধির পরিপন্থী)। যেখানে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম শিক্ষকের পান্ডিত্যের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক সেখানে পাঁচ বছরের মধ্যে তাকে এই ডিগ্রি নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় যা নীতিমালার লঙ্ঘন। এছাড়া শিপ্রা রানী রায় ২০০০ সালের নেত্রকোণা সরকারি কলেজ থেকে ৩য় বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। যেখানে নিয়োগ বিধিতে ২য় বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে ( ২০০৫ সালে) নিয়োগ পেলেও ২০১৯ সালে উলিপুর গোবিন্দ জিউ সংস্কৃত কলেজ থেকে আদ্য, মদ্য ও কাব্য ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার অনুমতি/ছুটি ছাড়াই চুপিসারে তা সম্পন্ন করেন।  অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে একাধিক হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক থাকার কোন সুযোগ না থাকলেও ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এমপিওভুক্ত পন্ডিত শিক্ষক ছিলেন শ্রী বিধান চন্দ্র রায়।

জানা গেছে, আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত হিন্দু ধর্ম শিক্ষক হিসেবে শ্রী বিধান চন্দ্র রায় ২০১০ সালের জানুয়ারী মাসের দুই  তারিখে অবসরে যান। শ্রী বিধান চন্দ্র রায় অবসরে গেলে এমপিওভুক্তির জন্য তোড়জোড় চালান এবং এমপিওভুক্ত হন শিপ্রা রানী।

২০১৯ সালে পান্ডিত্যের ডিগ্রি নিলেও ২০১০ সালে হিন্দু শিক্ষক হিসেবে কিভাবে এমপিওভুক্ত হন শিপ্রা রানী রায় এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় শিক্ষাবার্তা। নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা না থাকলে এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই। তবে শিপ্রা রানী রায়ের পান্ডিত্যের সনদ না থাকা, স্নাতকে ৩য় বিভাগ থাকা, যে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তৎকালীন সময়ে তার কোন অস্থিত্ব না থাকা এবং ধর্ম শিক্ষকের প্রাপ্যতা না থাকায় তিনি কোনভাবেই এমপিওভুক্তি হতে পারেন না। এমপিওভুক্তির জন্য তিনি পান্ডিত্যের সনদ জাল করেসহ সমস্ত কাগজ জালিয়াতি করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজসে তিনি এমপিওভুক্ত হয়ে আজ পর্যন্ত সরকারের এমপিও অংশের টাকা আত্মসাৎ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিপ্রা রানী রায় শিক্ষাবার্তা’কে মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলবো না। যা জানার প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জানেন।

যে সময়ে শিপ্রা রাণী নিয়োগ পান তখন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন জাকির হোসেন। সম্প্রতি দুইজনই মৃত্যুবরণ করেন।

জানতে চাইলে আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চানক্য সরকার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় স্কুলে কোন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নেই। ফলে এটা নিয়ে আমার জানার সুযোগ নেই। আর যখন নিয়োগ হয়েছে তখন আমি স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক ছিলাম। ফলে এ বিষয়ে নিয়ে আমার মন্তব্য করা উচিত হবে না। আমি আর এক মাস পর অবসরে যাব। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন শেষ সময়ে ভালো ভাবে অবসরে যেতে পারি।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এভাবে তো এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই। কিভাবে হলেন খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজুয়ান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা মাধ্যমিকের সাথে কথা বলেন। আমাকে বিস্তারিত দিন। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/১১/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.