শিক্ষাবার্তায় সংবাদ প্রকাশ: তদন্ত করল ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুরঃ জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের দুই মাস পর তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। গত ৩০ জানুয়ারিএমপিওভুক্ত শিক্ষক কী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন?” এবং ৩ ফেব্রুয়ারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হাসান, একাই একাধিক পদের অধিকারী” শিরোনামে দুইটি সংবাদ প্রকাশের পর গত ৯ মার্চ ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মোঃ দিদারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে শেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ানকে এই তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই সাথে দশ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বলেন।

গত মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে তদন্তে যান শেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ প্রসঙ্গের চিঠিতে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে দুইটি অভিযোগ উল্লেখ করে বোর্ড। কমিটির প্রস্তাবিত সভাপতি অন্য একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধায় প্রবিধান ০৭ এর উপ-প্রবিধান (২) মোতাবেক  ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারেন না। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনে বিদ্যালয় অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত না হয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যা প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৩৫(১) ধারা লঙ্ঘন হয়েছে মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রেজুয়ান তদন্ত প্রসঙ্গে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি সরেজমিনে তদন্ত করে এসেছি। দুই একদিনের মধ্যেই বোর্ডে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলেন কি না জিজ্ঞসে করলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দেখতে পারবেন।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চানক্য সরকার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্তে এসেছিল। তিনি শুধু কাগজপত্র নিয়ে গেছেন দুই পক্ষের কাছ থেকেই। বোর্ড যে দুই টি অভিযোগের তদন্ত দিয়েছে সে বিষয়টি তো পরিস্কার। প্রথম অভিযোগ প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি শিক্ষক কি’না তিনি যে শিক্ষক সেটা সবাই জানে। আর ২য় অভিযোগ সভাপতি নির্বাচন উপজেলায় হয়েছে কি’না। এটা লুকানোর কিছু নাই সভাপতি নির্বাচনও উপজেলায় হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, তদন্তে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে আসছিলেন। আমার কাছে কাগজপত্র চেয়েছে আমরা দিয়েছি। তবে কোন আলোচনা করেননি। বলেছেন বিষয়টি আমরা জানি। সেই আলোকেই তদন্ত রিপোর্ট দিব। আমি এবার সভাপতি হলে স্কুলের পাশে একটি ব্রিজ দরকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্ধে সেটা করব। এমপি মহোদয়কে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলে রেখেছি। অন্য দিকে নাজমুল বিভিন্ন দপ্তরে স্কুলের উন্নয়ন রুখতে আমার বিরুদ্ধে সেই শুরু থেকেই অভিযোগ দিয়ে আসছেন ভিত্তিহীনভাবে। যদি একজন শিক্ষক সভাপতি হতে না পারে বিধানে যা আছে সেটা হবে। সভাপতি নির্বাচন উপজেলায় হয়েছে সেটা নিয়েও বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেয় আমি মাথা পেতে নিব। যেহেতু আমি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত তাই সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।

তদন্তের বিষয়ে আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিযোগকারী নাজমুল জাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, এই নির্বাচন বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ কোনরকম আইনের তোয়াক্কা না করে এটি সম্পন্ন করছে। এই নির্বাচনে ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ০৫(পাঁচটি) ধারা সুনির্দিষ্টভাবে লংঘিত হয়েছে। যার সকল প্রমাণাদিসহ ময়মনসিংহ বোর্ডে লিখিত অভিযোগ  দেওয়া স্বত্ত্বেও তারা মাত্র দুটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত দিয়েছে। এখানে আমার বোধগম্য হচ্ছে না যে, সকল প্রমাণাদি স্বত্ত্বেও বোর্ড কেন দুটি বিষয় উল্লেখ তদন্ত দিল?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গাজী হাসান কামাল শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, তদন্ত পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্তে যাওয়ার কথা। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সেই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারী নাজমুল জাহান জানিয়েছেন তথ্য প্রমাণসহ সুদুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগ দিলেও বোর্ড দুইটি অভিযোগের তদন্ত দিয়েছে বিষয়টি অবহিত করলে চেয়ারম্যান বলেন, যে তদন্ত দেওয়া হয়েছে সেটার আলোকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০৩/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়। 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.