ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান হয়। এসব অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্স ও মাইকে উচ্চশব্দে বাজানো হয় গান। এই শব্দে ভোগান্তিতে পড়তে হয় টিএসসির পাশের রোকেয়া হল ও শামসুর নাহার হলের শিক্ষার্থীদের। তাঁরা অনুষ্ঠানের গানের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিএসসির মাঠে ও সুইমিং পুলে র্যাগ ডে, পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় উচ্চশব্দে গান বাজানো হয়। এ সময় টিএসসির পাশের রোকেয়া হলের চ্যামেলি, শাপলা, ৭ মার্চ ভবন এবং শামসুর নাহার হলের মিড ভবন ও অনার্স ভবনে গানবাজনার তীব্র শব্দ কানে আসে। গানবাজনা অনেক সময় সকাল থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। এই সময় হলের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক কাজও ঠিকভাবে করতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অতিরিক্ত গানবাজনার শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে প্রক্টরকে বিষয়টি জানালেও তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছু করতে পারবেন না বলে জানান।
এদিকে ঢাবির বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে চলে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এ জন্য শিক্ষার্থীরা এই সময় রিডিং রুমে পড়তে যান। কিন্তু উচ্চশব্দে গানবাজনার কারণে ঠিকমতো পড়তে পারেন না বলে জানান এই দুই হলের শিক্ষার্থীরা।
শামসুর নাহার হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের হলের মিড ও অনার্স ভবনের রুমগুলোতে টিএসসির সব প্রগ্রামের সাউন্ড চলে আসে। এ সময় পড়াশোনা তো দূরে থাক, অন্য স্বাভাবিক কোনো কাজ বা কিছুই করা যায় না। এত জোরে শব্দ হয়, মনে হয় যে পুরো ভবন আর জানালাগুলো কাঁপছে।’
এই শিক্ষার্থী বলেন, সকাল থেকে রাত ১২টার পরেও অনেক সময় গানবাজনা চালু থাকে। টিএসসির অডিটরিয়ামে প্রগ্রাম হলে কোনো সাউন্ড আসে না।
তবে টিএসসির মাঠে, সুইমিং পুলের জায়গায় কোনো অনুষ্ঠান হলে মনে হয় ভবন কাঁপছে।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী শারমিন শেফা বলেন, ‘এখানে র্যাগ ডে বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চার নামে অপসংস্কৃতি চর্চা হয়। এই সাউন্ডের কারণে এত পরিমাণ মাথাব্যথা ও অসহ্য যন্ত্রণা হয়, যা বলার মতো না। রিডিং রুমে পড়া পর্যন্ত যায় না। এত বাজে অবস্থা হয়।’
রোকেয়া হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রিডিং রুমে পড়াশোনা করার অবস্থা থাকে না এসব শব্দের কারণে। নামাজটাও ঠিকমতো আদায় করতে পারি না।’
টিএসসিতে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হলে পরিচালকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। তবে এই অনুমতির ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম বা শর্তাবলি দেয় না কর্তৃপক্ষ। আবেদন করার পর মাঠ বা সুইমিং পুল এলাকা খালি থাকাসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘নগদের বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর আয়োজন বন্ধ হয়ে গেলে এটি কমে যাবে। প্রক্টর স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। এখন টিএসসির সুইমিং পুল এলাকা আর এসব অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে না।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তারা আমাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। টিএসসির পরিচালকের সঙ্গে বসে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করব।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
