নেত্রকোনাঃ জেলার কলমাকান্দায় ‘কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এইচ এম ইলিয়াসের দায়িত্ব পালনকে নিয়মবহির্ভূত বলেছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে করা অভিযোগের তদন্ত শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতর (মাউশি) অভিযোগ সত্যতা পায়। পরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াসের দায়িত্ব পালনকে জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘন ও নিয়মবহির্ভূত বলে নির্দেশনা পত্রে উল্লেখ করে।
তাঁর (এইচ এম ইলিয়াস) স্থলে বিদ্যালয়ের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবুল কালাম মোহাম্মদ এমদাদুর রহমানকে বসানোর নির্দেশনাও জারি করে মাউশি।
গত মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের শিক্ষা কর্মকর্তা (মা-২) মো.তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনায় দেওয়া হয়।
বুধবার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গফুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৭জানুয়ারি কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহকারী প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মানুযায়ী সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সেইথেকে অধ্যবদি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সহকারী শিক্ষক এইচ এম ইলিয়াস। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন বিদ্যালয়ের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবুল কালাম মোহাম্মদ এমদাদুর রহমান। পরে তিনি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে এর প্রতিকার চেয়ে গত আগস্টে মাউশি মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় কর্তৃপক্ষ। পরে গত ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে মাউশি। এতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম ইলিয়াসকে সরিয়ে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এমদাদুর রহমানকে এ পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়।
জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবুল কালাম মোহাম্মদ এমদাদুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষক ইলিয়াস ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এতে অনেকে হয়তো তাকে সহযোগীতা করেছে। শিক্ষক ইলিয়াস সরাসরি আমার ছাত্র। ছাত্রের অধীনে শিক্ষকতা বেমানান। তাই ডিজি অফিসে এ নিয়ে অভিযোগ করার পর তদন্ত শেষে জ্যেষ্ঠ হিসেবে আমাকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে জীবনের শেষ সময়ে এটাই আমার প্রাপ্তি হিসেবে রইল। যদিও ভারপ্রাপ্তের আলাদা কোন বেতন স্কেল নেই। আছে সম্মান ও তৃপ্তি। এতেই আমি সন্তুষ্ট।
বর্তমান ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম ইলিয়াসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গফুর বলেন, পরিপত্রটি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমকে ফোনেও অবহিত করেছেন। শিক্ষক এইচ এম ইলিয়াস জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে চার নম্বরে রয়েছেন। বেআইনিভাবে তিনি এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর আবুল কালাম মোহাম্মদ এমদাদুর রহমান বিদ্যালয়ের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। তদন্তে সেটা প্রমাণ হয়েছে। নিয়মানুযায়ী সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হবেন। তাই এমদাদুর রহমানই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদে বসবেন। আগামী রোববার তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
