মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের উওর লালুয়া মাঝের হাওলা- গোলবুনিয়া গ্রামে যাতায়াতের ইটের সড়কটির নাজেহাল অবস্থা। বিভিন্ন স্থানে ইট সরে গিয়ে রাস্তাটি সম্পূর্নরূপে ঝুঁকিপূর্ন হয়ে গেছে। সড়কটিতে যেকোন সময় মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়কটি গুরুত্বত্বপূর্ণ হওয়ার কারনে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী সহ প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের ছোনখোলা, মাঝের হাওলা, গোলবুনিয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদর ও বাজারের যাতায়তের একমাত্র সড়ক হওয়ার কারনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের যাতায়ত করতে হয়। অত্র এলাকার মানুষের দ্রুত চলাচলের একমাত্র বাহন মটরসাইকেল। এছাড়া ভ্যান গাড়ী ও টমটমেও তারা যাতায়ত করে। সকল যানবহনগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্নিঝড় সিডরের সময় সড়কটির কিছু অংশ ভেঙ্গে যায় এরপর আর সড়কটির সংস্কার করা হয়নি।
এছাড়া বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল সড়কের অধিকাংশ জায়গা থেকে ইট নিয়ে ঐ ইট দিয়ে ঘর তৈরি, পুকুর ঘাট, টয়লেট ইত্যাদি তৈরি করছে। সড়কের ইট তুলে নেওয়ার কারণে জনবহুল এ রাস্তাটিতে বড় ধরনের গর্র্তের সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলা কেনোমতে মানুষ চলাচল করলেও রাতের আঁধারে খানাখন্দে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনগুলোও শিকার হয় মারাত্মক দুর্ঘটনার। সড়কটির উপর নির্র্ভর করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে আসা এলাকার সহস্রাধিক মানুষ শেরে বাংলা নৌঘাঁটি, উওর লালুয়া ইউ,সি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাঝের হাওলা প্রাণকেন্দ্র লঞ্চঘাট, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচল করে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়াও কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সড়কের কারনে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় বাড়িতেই মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে শেষ মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করতে হয়।
পায়রা বন্দর থেকে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং ৩নং লালুয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া, চিংগুরিয়া, গোলবুনিয়া গ্রামের ছাএ-ছাএী ৩/৪ কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কে পায়ে হেঁটে উওর লালুয়া ইউ,সি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় আসা যাওয়া করে পড়াশুনা চালাতে সীমাহীন কষ্ট শিকার করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এলাকার অনেক শিক্ষার্থী কলাপাড়ার বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে তাদের সবাইকে পায়ে হেঁটে ঐ ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়তে হয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ কয়েক’শ ব্যবসায়ী। এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও এদের জীবনমান নিয়ে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো মাথাব্যাথা।
এলাকাবাসী ও একাধিক পথচারী জানায়, সড়কটির অবস্থা এতটা নাজুক হওয়ায় চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং দূর্ঘটনার আশংকা থেকেই যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবী সড়কটি যদি এখনি সংস্কার না করা হয় তাহলে সড়কটির অবস্থা আরো খারাপ হবে এবং সাধারণ জনগণ আরো মারাত্মাক দূর্ভোগের শিকার হবে। তাই সড়কটি যেনো দ্রুত সংস্কার করে সকলের যাতায়াতের জন্য উপযোগী করা হয় সেজন্য যথাযথ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সড়কে দূর্ভোগের কারনে তাদের মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সড়ক ভালো না থাকায় গাড়ি প্রবেশ করাতে পারছেন না। তাছাড়া এই সড়ক পথে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মচারী ধানখালী ১৩২০ পায়রা মেঘাওয়াট তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে এবং লালুয়া শেরে বাংলা নৌঘাঁটিতে যাতায়ত করে। ভাঙ্গা এই সড়কের কারনে তাদেরও দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া এ এলাকার মানুষ কৃষিনির্ভর, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য কলাপাড়া উপজেলা সদরে নিয়ে যেতে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হয়। এ ব্যাপারে সড়ক উন্নয়নে জরূরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

এবিষয়ে ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: মুজাম্মেল হোসেন বলেন, সিডরের পর থেকে আজপর্যন্ত দীর্ঘদিন জনবহুল এ রাস্তাটি মানুষ চলাচল ও যানবহনে যাতায়তের জন্য অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে, তাই জরুরী এ রাস্তাটি দ্রæত সংস্কার প্রয়োজন ।
লালুয়া ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, ২০০৭ সালের সিডরের পর থেকে বহুল জনপদ অধ্যুষিত এ রাস্তাটি অবহেলিত হয়ে রয়েছে, বারবার রাস্তাটির দূরবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়া হলেও তারা কোনোই ব্যবস্থা নিচ্ছেনা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর একে-অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারন মানুষ, অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান কতৃপক্ষকে আবারো অনুরোধ জানান।
কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো: আবদুল মান্নান বলেন, লালুয়ার এ রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটির কাজ করার পর স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কাজ শুরু হবে, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
পাউবো ( কলাপাড়া সার্কেল ) নিবাহী কর্মকর্তা খান মো: অলিউজ্জাামান জানান, পাউবো এবং এলজিইডি দুই মন্ত্রালয়ের সাথে একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, রাস্তার কাজ করতে পাউবো’র অনাপত্তি পত্র নিতে হবে ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
