নোয়াখালীঃ জেলার সদর উপজেলার অশ্বদিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. মহিব উল্যাহর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শত শত ছাত্রী বিদ্যালয়ের গেটে ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি বেগতিক দেখে ছুটি দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ।
এর আগে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠে শিক্ষক মো. মহিব উল্যাহর বিরুদ্ধে। পরে গভর্নিং বডি তাকে ওএসডি করে ১৫ দিনের জন্য ক্লাস কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করে অফিসকক্ষে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শেখ মো. সফিকুর রহমান বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর এক ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর গভর্নিং বডির সভায় সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে অঙ্গীকারপত্র দেয়ায় তাকে ক্লাস কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে অফিসকক্ষে অবস্থানের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, রবিবার বিদ্যালয় খোলার পর ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্লাসে পাঠানোর দাবি জানায়। তাদের দাবি মেনে না নেয়ায় ক্লাস বর্জন করে তারা আন্দোলন শুরু করে। তারা উত্তেজিত হয়ে পড়লে গভর্নিং বডির নির্দেশে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিব উল্যাহ বলেন, ‘সেদিন তিন ছাত্রী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে টিকটক করছিল। তাদেরকে বারণ করেও নিবৃত্ত করা যায়নি। পরে এক ছাত্রীর বাহুতে থাপ্পড় দিয়ে ক্লাসে যেতে বলি। বিষয়টি নিয়ে কথা উঠায় আমি দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু কমিটির লোকজন আমার থেকে জোরপূর্বক অঙ্গীকারনামা নেয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের টেস্ট পরীক্ষা। এমন সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের গণিত শিক্ষক মহিব উল্যাকে ক্লাস নেয়া থেকে বিরত রেখেছে। আমরা মনে করি এটা তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এর বিচার চাই।’
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার স্বামী ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকায় আছি। অধ্যক্ষ আমার ফোন ধরেননি। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টি কেউ জানায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঁখিনূর জাহান নীলা বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অশ্বদিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরীকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৫/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
