কুষ্টিয়াঃ শ্রেণিকক্ষের সঙ্কটের কারণে শিক্ষক লাউঞ্জ দখল করে ক্লাস করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও সমাধান না পাওয়ায় এ উদ্যোগ নেন তারা। এদিকে শিক্ষক লাউঞ্জ উদ্ধারের দাবিতে কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম আবদুর রহিম।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ১৩৬ নম্বর কক্ষের (শিক্ষক লাউঞ্জ) সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ছয়টি ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে দু’টি। ফলে কক্ষ সঙ্কটের কারণে সেশনজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এ সঙ্কট নিরসনের জন্য ভিসির কাছে কয়েক দফায় আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সঙ্কট নিরসনের আশ্বাস দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।
শনিবার সকালে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস নিতে আসেন বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন। তবে কক্ষ ফাঁকা না পাওয়ায় ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে ক্লাস নেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘ক্লাসের সময় ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম আবদুর রহিম সেখানে আসেন। এ সময় তিনি ক্লাসে এসে ভিডিও করে হেনস্তা করেন এবং স্যারের সাথে বাকবিতণ্ডা করেন। পরে ক্লাসের সামনে চেয়ারে এক প্যাকেট সিগারেট ও কলা নিয়ে বসেন। ক্লাসের পরে আমরা সেখানে তালা লাগিয়ে দেই। আমাদের শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত এখানেই ক্লাস করবো।’
শিক্ষক লাউঞ্জ দখল করে ক্লাস করার প্রতিবাদে সেখানে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক এস এম আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজকে সকালে এসে দেখি শিক্ষক লাউঞ্জে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতেছে এবং ক্লাস শেষে সেখানে তালা দিয়েছে। শিক্ষক লাউঞ্জ দখল করে নিয়েছে এটা আমার আত্মসম্মানে বেধেছে বিধায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। শিক্ষক সমিতির আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছি কিন্তু সমাধান না হলে আবারো অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।’
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শরিফ মো: আল-রেজা বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট নিরসনের জন্য আমরা প্রশাসনকে কয়েকবার জানিয়েছি। পরে শিক্ষার্থীরা ভিসি স্যারের সাথে দেখা করেছে, কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা হয়তো ওই রুমে তালা দিয়েছে। আশা করি সঙ্কটের বিষয়ে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা সমাধান করার জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছিল। তারা এখনো আমাদের রিপোর্ট দেননি। রিপোর্ট দিলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
