হবিগঞ্জঃ শিক্ষার সুব্যবস্থা আর শিক্ষার্থীদের সুবিধা ছাড়া অনিয়ম আর জরাজীর্ণতার সবই আছে এখানে। সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল ভবন। সুপেয় পানি ও শৌচাগারের সমস্যা। সেই সঙ্গে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি আর অনিয়ম।
এমন অভিযোগই পাওয়া গেছে, বানিয়াচংয়ের ১৪৩ নং নথুল্লাপুর তেরাউতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারে। উপজেলার ১১ নং মক্রমপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বহু দিন ধরেই ভুগছে ভবনসহ নানা সমস্যায়। ১৯৮৭ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
নতুন ভবন না হওয়ায় জীর্ণ ভবনেই চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষের মেঝে দেবে গেছে। ভেঙে বেরিয়ে এসেছে নিচের ঢালি ও রড। রয়েছে বেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের সংকট। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ভোগিন্তা পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য সুপেয় পানি এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায়। যে শৌচাগারটি আছে, সেটিও রাখা হয়েছে তালাবদ্ধ করে। এমন নাজুক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থী উপস্থিতি যেমন কমছে, তেমনি আগ্রহ হারাচ্ছে ভর্তিচ্ছুরা।
এই পরিস্থিতির মাঝেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লিপের টাকা আত্নসাৎ, বিদ্যালয়ে ঠিক মতো না আসা, নিজের মন মতো কমিটি গঠন, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়াসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি নথুল্লাপুর তেরাউতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। তবে উপস্থিতির সংখ্যা কম। পুরোনো ভবনের ছাদ ভেঙে গেছে। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। অফিস কক্ষসহ তিনটি কক্ষে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে নেই টিউবওয়েল, টয়লেট ও পর্যাপ্ত বেঞ্চের ব্যবস্থা। চালু করা হয়নি মিড ডে মিল।
বিদ্যালয়ের জমিদাতার সন্তান সুমন চন্দ্র দাস জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষকের দ্বন্দ্ব চলছে। এলাকাবাসীর সঙ্গেও প্রায়ই নানা অনিয়মের কারণে প্রধান শিক্ষকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ বছরে কোনো ধরনের উন্নয়ন করা হয়নি প্রতিষ্ঠানটির। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের আগ্রহও নেই। তিনি নিজের মনগড়া কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালান। বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি কে– সেটাই জানা নেই কারও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ দেবনাথ জানান, ২০১৭ সালে তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বর্তমান ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। তার পরও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্লিপের টাকা আত্মসাৎ নয় বরং সে টাকা থেকে টেবিল, ফ্যানসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার কথা জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক দিলীপ দেবনাথ জানান, ভবনের অবস্থা ভালো না, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে গেছেন তিনি। উপবৃত্তির কাজ হলে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী যেসব অভিযোগ এনেছেন, সেগুলো ভিত্তিহীন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম জানান, এসব সম্পর্কে কেউ তাঁকে জানায়নি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
