এইমাত্র পাওয়া

স্কুল হোক শিক্ষার্থী বান্ধব

উম্মে হাবীবা খুকিঃ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে শিক্ষা এমন এক শক্তি, যা জাতি, ধর্মবর্ণনির্বিশেষে স্বপ্ন দেখার প্রথম সোপান। কবি মিলটনের ভাষায়-‘Education is the harmonious development of body, mind & soul.’ অর্থাৎ ‘শিক্ষা হলো দেহ, মন ও আত্মার সমন্বিত উন্নয়ন।’ আর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম ধাপ হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সব শিক্ষার বুনিয়াদ। পৃথিবীর সব দেশেই প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি উৎকৃষ্ট বীজ থেকে যেমন একটি গাছের মহিরুহ হয়ে ওঠা সম্ভব হয়, তেমনই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা জাতি গঠনে সহায়ক হয়।

সুশিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড আর শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান উপকরণ শিক্ষক। মার্জিত কথাবার্তা, অমায়িক আচরণ, পরিমার্জিত ও রুচিশীল জীবনাচরণ, পরিচ্ছন্ন পোশাক একজন শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং শিক্ষার্থীর জীবনকে আলোকিত করে। তিনিই হবেন সেই আদর্শ শিক্ষক, যিনি তার দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকবেন। যে বিষয়ে পাঠদান করবেন সে বিষয়ের ওপর থাকবে তার বিশেষ দক্ষতা, তত্ত্ব ও তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা। সর্বোপরি আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি তাকে শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

যুগোপযোগী শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, পূর্বপ্রস্তুতি ও পাঠসংশ্লিষ্ট আকর্ষণীয় উপকরণ। শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, সবল অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষার পথকে সুগম ও সুদূরপ্রসারী করবে। গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল পদ্ধতি ও ডিজিটাল কন্টেন্টের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত উদাহরণ দিয়ে জ্ঞানদান করলে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে। শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীকে সৃজনশীলতায় আগ্রহী করতে হবে।

একজন শিক্ষক শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতি, আগ্রহ, অনুপ্রেরণা প্রত্যয়ের সঙ্গে গ্রহণ করলে প্রাথমিক শিক্ষায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আসবে। শিক্ষকতাকে জীবন ও জীবিকার একমাত্র উৎস মনে না করে এটিকে ইবাদত মনে করে কাজ করলে সাফল্যমণ্ডিত হবে প্রাথমিক শিক্ষা। বলা হয়, ‘Teaching is not only a service but responsibility to humanity.’ বর্তমানে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কারিকুলামেরও পরিবর্তন হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন। একজন শিক্ষক তার সব জ্ঞান, দক্ষতা বিনিয়োগ করেন সেখানে। অপর্যাপ্ত আলো, বিদ্যুৎ সংকট, আসবাবপত্রের স্বল্পতা শিক্ষার্থীর শিখনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যদি বিজ্ঞানভিত্তিক, বিনোদনভিত্তিক ও সৃজনশীলভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে অভিভাবক অসচেতনতা দেখা যায়, যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। শিশুরা না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে, যার ফলে তাদের মনোযোগ নষ্ট হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই তিনের সমন্বয়ে হয় শিক্ষা। মা সমাবেশ এক্ষেত্রে ইতিবাচক। বলা হয়, ‘শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল/প্রতিটি ঘর হবে একেকটি স্কুল।’ একটি শ্রেণিকক্ষে সব শিক্ষার্থীর সমান যোগ্যতা থাকে না। কেউ চোখে কম দেখে, কেউ কানে কম শোনে, কারও বুঝতে সমস্যা হয়। এসব শিশুকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই, বিদ্যালয় হবে শিক্ষার্থীবান্ধব। এক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

উম্মে হাবীবা খুকি: শিক্ষিকা

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৯/২০২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.