প্রধান শিক্ষক রহিমের যাবজ্জীবন বহালের দাবি দুই নারী সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ অবিলম্বে জামিন বাতিল করে ধর্ষণের দায়ে লংগদুর স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করে-জমি দিয়ে জামিন  প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমের গ্রেফতার ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। যার মধ্যে অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে আলোর মুখ দেখতে না পেলেও ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলে। গণরোষের মুখে প্রশাসন ধর্ষক আবদুর রহিমকে গ্রেফতার করে এবং বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর ধর্ষক আবদুর রহিমকে এ দণ্ডের রায়ে উচ্চ আদালতের প্রতি পার্বত্যবাসীর মনে আস্থা ফিরিয়ে আনে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ধারণায় মানুষ স্বস্তিবোধ করে। কিন্তু এ রায়ের কয়েক মাস না যেতেই ধর্ষক আবদুর রহিম মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে বিয়ে করা ও এক একর জমি লিখে দেওয়ার শর্তে জামিন পান, যা ভুক্তভোগীর প্রতি চরম অবিচার, তাকে লাঞ্ছিত ও হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে ধর্ষক আবদুর রহিমকে জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার এবং আলাদাভাবে জালিয়াতি আইনে বিচার ও সাজা প্রদানসহ আগের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর রাঙামাটির লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের যাবজ্জীবন সাজা হয়। এ ছাড়া তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিন মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। রায়ে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, “ছাত্রীকে ধর্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন আসামি।”

এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন, অভিযুক্ত আবদুর রহিম। জানান, সেই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন, তাই যে কোনো শর্তে জামিন চান তিনি। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। রাষ্ট্রপক্ষও আদালতকে সাফ জানিয়ে দেন, এ ধরনের বিয়ের কোনো ভিত্তিই নেই। আর পুরো বিষয়টি জেনে আসতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ এক একর জমি ধর্ষিতা সেই নারীর নামে লিখে দেয়ার শর্তে, জামিন দেয়ার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। সব শুনে হাইকোর্ট এক একর জমি লিখে দেয়ার শর্তেই জামিন দেন শিক্ষক আবদুর রহিমকে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.