ফাইল ছবি

কুড়িগ্রামে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকায় কলেজে তালা

কুড়িগ্রামঃ জেলার ফুলবাড়ীতে রাবাইতারী আদর্শ বালিকা স্কুল অ্যান্ড ও কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে টানা তিন মাস ধরে বেতন-বোনাস বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সোমবার (১০ জুলাই) সকালে চরম ক্ষোভ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। তালা দেওয়ায় ওই দিন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পাঠদান করতে না পেরে ফিরে যায়। পরে খবর পেয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মাহফুজার রহমান আসলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তালা খুলে দেন।

জানা যায়, এ বছরের ৪ এপ্রিল কলেজের অধ্যক্ষ হোসেন আলী অবসর গ্রহণ করলে পদটি শূন্য হয়। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের নিয়ম থাকলেও গভর্নিং বডি ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক এসএম রেজাউল হক মনিকে দায়িত্ব প্রদান করে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর এবং আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সহকারী অধ্যাপক এসএম রেজাউল হকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বাতিল করে সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করার জন্য গভর্নিং বডিকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত কলেজ গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই প্রতিষ্ঠানে দুই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের দ্বন্দ্বে তিন মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান।

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নুর ইসলাম বলেন, আমরা ছোট পদে চাকরি করি। তিন মাস ধরে বেতন-বোনাস পাইনি। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। সামনে একটা বড় ঈদ গেল বেতন-বোনাস না পাওয়ায় পরিবারকে ভাল কিছু খাওয়াতে পারিনি। খুবই কষ্টে আছি পরিবার-পরিজন নিয়ে। তাই বাধ্য হয়ে সব কর্মচারী মিলে তালা লাগিয়েছি। পরে সভাপতি আসায় দুপুরে ১২টায় তালা খুলে দিয়েছি।

রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, গভর্নিং বডি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক এসএম রেজাউল হক মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হলে আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অভিযোগ করি। পরে আদালতের নির্দেশনায় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সহকারী অধ্যাপক এস এম রেজাউল হক মনি বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সহকারী প্রধান শিক্ষক আদালতে মামলা করলে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের স্থগিত করে সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হলে আমি তার বিরুদ্ধে আপিল করি এবং আদালত আমাকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেন।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মাহফুজার রহমান বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব সঠিকভাবে উপস্থাপন না করায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আদালত, অধিদপ্তর ও বোর্ডের নির্দেশে সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই রকেট বলেন, আদালত যেভাবে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা সেভাবেই কাজ করবো। যাতে ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে তৎপর আছি। বেতন-বোনাসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.