নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন্স স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম ইজিবাইক চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিহত শিক্ষিকার স্বামী মো. মাহাবুব আলম ব্যবসায়ী। তাদের দুই সন্তানের দু’জনই মেয়ে। বড় মেয়ে সুমাইয়া ফারহা তিথি ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও ছোট মেয়ে লাবিবা তাহসীন নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
শনিবার দুপুরে নগরের মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা হারানোর শোকে দুই মেয়ের কান্না কেউ থামাতে পারছে না। বড় মেয়ের মেডিকেলে প্রথম বর্ষের টার্ম পরীক্ষা থাকলেও তাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। মায়ের শোকে বারবার মূর্ছা যাওয়া দুই মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বারবার কাঁদছেন বাবা নিজেই।
মাহমুদার স্বামী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সংসারটি খুব সাজানো গোছানো ছিল। দুই মেয়েকে নিয়ে খুব সুখের সংসার ছিল আমাদের।’
মাহমুদার দেবর নূরে আলম জানান, ঘটনার দিন পুলিশ লাইন্স স্কুলে পুলিশের পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা নিতেই শিক্ষিকা মাহমুদা স্কুলে গিয়েছিলেন। এদিকে শনিবার দুপুরে শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান নারায়ণগঞ্জ সদরের ইউএনও নাহিদা বারিক। তিনি মাহমুদার দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং যে কোনো প্রয়োজনে পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন আছে বলে আশ্বস্ত করেন। ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, এই ইজিবাইকগুলোর কোনো বৈধতা নেই। ইজিবাইকচালকের বিরুদ্ধে আইনগত দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকায় শিক্ষিকা মাহমুদা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ইজিবাইক তাকে চাপা দেয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ইজিবাইকচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল