দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছেন। কিন্তু গতকাল (শনিবার) শিক্ষা উপমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রতীয়মান হয়, তিনি আমাদের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত পড়ে দেখেননি।
শিক্ষা উপমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড় না হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুর্নীতি কেবল অর্থ ছাড়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয় না। এর আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাই করে। তারা অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে ই-টেন্ডার না দিয়ে ম্যানুয়েল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এসব ঘটনায় দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা গণমাধ্যমে টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। আমরা প্রথম থেকেই এসব ঘটনার তদন্ত দাবি করে আসছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও ভিসির ইন্ধনে ছাত্রলীগের একটি অংশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলাকে ভিসি গণঅভ্যুত্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, উপাচার্যের দুর্নীতির যদি তদন্ত হয়, তবে তা চলাকালে তাকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিতে হবে। নাহলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। সুষ্ঠু তদন্ত হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের টাকায় নয়, জনগণের টাকায় চলে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় আগামী দুদিন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পটচিত্র প্রদর্শন ও সংহতি সমাবেশ এবং বুধবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন তারা।
গতকালও বিকাল ৫টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায় ৬০ গজ দীর্ঘ কাপড়ে আঁকা ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল