নওগাঁর রাণীনগরে ট্রেন রক্ষাকারী শিক্ষার্থীরা তাদের সাহসিকতা ও বীরত্বের পুরস্কার পেতে যাচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার বড়বড়িয়া নামক স্থানে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী রেল লাইনের ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে দাঁড়িয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনকে মোবাইলের লাল আলো, গায়ের জামা, গামছা ও গেঞ্জি উড়িয়ে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, গত পহেলা নভেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া নামক স্থানে প্রচণ্ড গরমের কারণে রেললাইনের একটি অংশ ভেঙ্গে যায় এবং ওই এলাকার একদল ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সেই ভাঙ্গা অংশ দেখতে পায়। তার একটু পরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থল অতিক্রম করার আগেই তারা মোবাইলের আলো লাল জ্বালিয়ে, পরিহিত শার্ট, গামছা, গেঞ্জি যার কাছে যা ছিলো সেটা বাঁশের কঞ্চিতে বেধে সংকেত দিয়ে ট্রেন থামায়। তাদের এই তাৎক্ষনিক বুদ্ধির কারণে ট্রেনে থাকা কয়েক হাজার যাত্রী বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করে সেই সব শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হয়েছে। সেই সাহসী শিক্ষার্থীরা হলো উপজেলার পশ্চিম গবিন্দপুর (বড়বড়িয়া) গ্রামের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাইম ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম লেবুর ছেলে বাঁধন (২১), একই গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে আরিফ (২১), সাইফুল ইসলাম টিক্কার ছেলে রাকিব খান (২০), বড়বড়িয়া গ্রামের হাফিজুর ইসলামের ছেলে হিমেল (১১), গবিন্দপুর (সাতানী) গ্রামের উজ্জল হালদারের ছেলে অন্তর (১১), ধীরেশ চন্দ্র হালদারের ছেলে বিপ্লব (১৩) ও মামুন হোসেনের ছেলে ইব্রাহীম (১১)।
এই সংবাদটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশের পর সেই সাহসী শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসন সাহসিকতায় বীরত্বপূর্ন কাজের পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করবেন। আগামী ১১ নভেম্বর (সোমবার) জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাদেরকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
