সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

পটুয়াখালীঃ জেলার দশমিনায় সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। জানা যায়, দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হোসেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর জাল করে মো. আব্দুল জলিল নামের একজনকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২১ সালের ৬ই ডিসেম্বর এমপিওভুক্তির জন্য ডিজি’র কাছে সুপারিশ করেন। অথচ মো. আব্দুল জলিল নামের কাউকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সভাপতি কিছুই জানেন না। নিয়মানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে হলে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতিই হচ্ছে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি। কিন্তু এখানে হয়েছে তার উল্টো। সভাপতিকে না জানিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারী মো. আব্দুল জলিলের এমপিও বাতিলসহ জালিয়াতি চক্রের হোতাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সোহরাব হোসাইন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর গত মাসের ২৯ তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও মাউশি বরিশাল অঞ্চলের বিভাগীয় উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দশমিনা ও ব্যবস্থাপক সোনালী ব্যাংক দশমিনাকে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা তদন্ত শুরু করেন। ওই তদন্তে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতির বিষয়টি উঠে আসে এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হোসেন নিজেই সভাপতিকে ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর জাল করে সম্পূর্ণ সাজানো ও ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এবং মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করেন এটা স্পষ্ট। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, নিয়োগ সম্পর্কে সভাপতি সবকিছুই জানেন, তার নিজের বাড়ির একজন প্রার্থী ছিল।

ওই প্রার্থী না নেয়ায় বাড়ির লোকদের বুঝানোর জন্য এসব বলে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা বলেন, হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী তদন্ত করেছি এবং কাগজপত্র যাচাই শেষে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হোসেন নিজেই তার অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর জাল এবং সভাপতিকে ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও স্বীকার করেছেন। তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.