গ্রীষ্মকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মর্নিং ক্লাস প্রসঙ্গে

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।।

এবারের গ্রীষ্মে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। তীব্র তাপদাহে পুড়েছে সারাদেশ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাহি অবস্থা, হাঁসফাঁস করে পশু-পাখি। একটু শীতল পরশের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে প্রকৃতি। এর সাথে যোগ হয় অসহনীয় লোডশেডিং। ফলে জনজীবনে নেমে আসে এক ধরণের স্থবিরতা। এমতাবস্থায় দেশের কেমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। স্থগিত করা হয় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টূর্ণামেন্ট। বন্ধ ঘোষণা করা হয় মাধ্যমিকের ক্লাসও।

এমনিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ রয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর গ্রীষ্মে যেভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে তা এই অবকাশ দিয়ে পূরণ হবার নয়! তাছাড়া, গ্রীষ্মের ছুটি দেওয়া হয়েছে বর্ষায়। সে কারণে আগামী বছর গ্রীস্মকাল থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মর্নিং ক্লাস চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছি। এতে করে শিক্ষার্থীরা বেঁচে যাবে শারীরিক সব অসুস্থতার সম্ভাবনা থেকে। লোডশেডিং কমাতে এটা কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া, ঋতুবৈচিত্র্যের এদেশে এখন সুনির্দিষ্ট ঋতুর দেখা পাওয়াই কষ্টকর! এখানে বছরের বেশিরভাগ জুড়েই যেন গ্রীষ্মের আবহ!

প্রচন্ড তাপদাহের কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাদ যাচ্ছেনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীও। গরমে ইতিমধ্যে দু’একজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং অনেকের অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। তীব্র তাপদাহে মৃত্যু ও অসুস্থদের দায়ভার কে বহন করবে? মর্নিং শিফটে ক্লাস মূলত: শিক্ষার্থীদের সুস্থতার কথা চিন্তা করেই করা প্রয়োজন। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিশাল এই শিক্ষার্থী সমাজকে বাঁচানোই লক্ষ্য। এর আগে মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে দীর্ঘসময় স্কুল, কলেজ বন্ধ ছিল। যে সুস্থতার কথা মাথায় রেখে করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় ঠিক সেই সুস্থতার কথা চিন্তা করেই প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় মর্নিং ক্লাস চালু করা যেতে পারে। যা একেবারে একটি যৌক্তিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করি।

এবারের তীব্র তাপদাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি ও এ সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন অনেকেই। তুলে ধরেন নানা যুক্তি। এসব মতামত ও যুক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে হয়তো তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতেও পারেন। এরপরও আমি মনে করি, তাদের সেই মতামত বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। দরকার হলে এ বিষয়ে আরো চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকার হবে। অবশ্য দুই শিফট চালু থাকা স্কুলগুলোর জন্য সাময়িক অসুবিধা হলেও তা যেকোনভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার আগে শিক্ষার্থী।

তাই তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রাখতে হবে। তাদের সুস্থতা, অসুস্থতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের প্রবল বিশ্বাস নিয়ে স্কুলে পাঠান। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এসব কারণে, গ্রীষ্মকালে মর্নিং শিফট চালু করতে নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা দরকার। গরমের কারণে অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মর্নিং শিফট চালুর কোন বিকল্প দেখছিনা।

পৃথিবীর অনেক দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মে মর্নিং ক্লাস চালু করা হয় অথবা দীর্ঘমেয়াদে স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়। আমাদের এখানে যেহেতু করোনায় দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ বন্ধ ছিল সেহেতু শিখন ঘাটতি পূরণে গ্রীষ্মের সময় মর্নিং ক্লাস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ রইলো। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

★ লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.