স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই যাচ্ছে এনআইডি সেবা

ঢাকাঃ ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০২৩’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন এই আইন সংসদে পাসের পর কার্যকর হলে নাগরিকদের পরিচয়ের একটিই নম্বর থাকবে। যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জন্মের পরেই দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিকালে সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মো. মাহবুব হোসেন। তিনি জানান, খসড়া অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিবন্ধকের কার্যালয় থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ঠিক কবে নাগাদ এটা আইনে পরিণত হবে, সেটা আমি জানি না। তবে আমরা চাই দেশের সব নাগরিকের একটাই নম্বর থাকুক। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি।’

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দিতে নিবন্ধন আইনের খসড়া এক বছর আগেই মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।

সাধারণত কোনো আইন সংসদে পাস হলেই কার্যকর হয়। তবে এ আইনের ক্ষেত্রে তা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘এ আইনটি সংসদে পাস হলেও এখনই কার্যকর হবে না। সরকার যখন মনে করবে, তখন সিদ্ধান্ত জানালে এই আইন কার্যকর হবে।’

এ আইন কার্যকর হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি সংক্রান্ত দায়িত্ব হবে শুধু ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা তাকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করবেন। আর নাগরিকরা জন্মের পরপরই নিবন্ধন করে ফেলতে পারবে; যা করতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে,’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য সব নাগরিকের একটি ইউনিক নম্বর থাকা দরকার। এত দিন হয়তো বিভিন্ন ধাপে নম্বরগুলো দিয়েছি। যেটা নিয়ে এখন অনেক সময় কনফিউশন তৈরি করছে অনেক সময়। এখন প্রত্যেক নাগরিকের একটি নম্বর থাকবে, যেটি তার আইডেন্টিটি হবে। সেটার ভিত্তিতে তার সমগ্র জীবনে, আমাদের যেমন সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স (সিআরভিএস) তথ্য আছে সেগুলো আপডেট করবে। এটা আস্তে আস্তে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করব।’

অভিজ্ঞ লোকজনই নিয়োগ দিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ‌্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের লোক তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ লোক তো অবশ্যই লাগবে, তাদেরই নিয়োগ দেয়া হবে।’

নির্বাচনের আগেই কী সংসদে আইনটি পাস করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি বলতে পারব না। প্রক্রিয়া শেষ করে সংসদে নিয়ে যাওয়া হবে। সংসদ সেটি সিদ্ধান্ত নেবে।’

নির্বাচন কমিশন ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজ শুরু করে। ভোটার তালিকার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার কাজটিও হয় ইসির মাধ্যমে। ২০১০ সালে ইসির অধীনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়।

এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে দেওয়ার বিষয়ে গত ২০২১ সালের ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তা নিয়ে ইসি আপত্তি জানায়। তবে সরকার সেই আপত্তি আমলে নেয়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.