প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অংশ নেয়া ও তাদের প্রশ্ন করার সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকরা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে যানই নাস্তানাবুদ হতে! সেখানেই শেষ নয়, নাস্তানাবুদ হওয়ার পর তাদের যে কী একটা বেহায়া হাসি দেখি, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে।’
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি’ আয়োজিত ‘হুমকির মুখে বাক স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি প্রায়ই বিবিসি, সিএনএন দেখি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী যখন সংবাদ সম্মেলন করেন, তখন সাংবাদিকরা তাদের নাস্তানাবুদ করে ফেলেন। কিসের ট্রাম্প, কিসের কী! তিনবার, চারবার তারা দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন। বারবার তারা বলতে থাকেন, ‘আপনার (রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর) কোনো অধিকার নেই আমার প্রশ্ন বন্ধ করার।’
প্রেসিডেন্টদের ঘাম ছেড়ে জ্বর চলে আসার মতো অবস্থা হয়। আর বাংলাদেশে হয় উল্টো।’
আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ধারাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আপনি অপরাধ করার চিন্তা করতে পারেন, এটাকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মামলা করার বিধান রাখা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। অর্থাৎ আপনি কী ভাবতে পারেন, সেটা আগে থেকেই আরেকজন ভেবে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে! আপনি ভাবলেন কেন, আপনার ভাবনাটা তো অপরাধ। তার মানে আপনার কল্পনা, চিন্তাশক্তি আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এই আইনে আছে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সদস্য ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
