নতুন করে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করা হয়েছে ২৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। তবে সদ্য ঘোষিত ২৭৩০ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির বিষয়ে নানা অসঙ্গতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।নতুন করে আলোচনায় এসেছে নড়াইলের নড়াগাতি থানার চান্দেরচর এলাকার পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সদ্য ঘোষিত এমপিও তালিকায় স্থান পেয়েছে স্কুলটি। তবে স্কুলটির নেই কোন নিজস্ব ভবন। এমপিওভুক্তির আট দিন পর ঝোঁপজঙ্গল পরিষ্কার করে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষকৃত নেপিয়ার ঘাস, কলাগাছসহ ঝোঁপজঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণের জন্য। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি চান্দেরচর গ্রামের আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে হাজির হন।
তিনি জানান, দুই একদিনের মধ্যে ঘর নির্মাণ হয়ে যাবে। বিদ্যালয়ের জন্য ৭৫ শতক জমি অনেক আগেই কেনা হয়েছে। এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিক্ষকের সংখ্যা সাত। এখানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এতদিনেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বা ঘর নির্মাণ করা হয়নি কেন? আর ঘর না থাকলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যালয় সভাপতি আসাদুজ্জামান কিছুটা বিব্রত।
তিনি দাবি করেন, পাশের একটা টিনের ঘরে এতদিন ক্লাস হয়েছে। ঘর নির্মাণের পর এখানে ক্লাস হবে।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালে পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর মাউলী ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের (সাবেক) পাশে টিনের খুড়পিঘর রয়েছে। ভেতরে তিনটি কক্ষের মধ্যে দুই-তিনটি করে বেঞ্চ রয়েছে। খুড়পি ঘরের পেছনে ঘন বনজঙ্গল থাকায় ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঘরটিতে তেমন জানালা ও দরজা নেই। স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা পরিবেশ। এখানে শিক্ষার্থীরাও ঠিকমত উপস্থিত হয় না। শিক্ষকদের বসার চেয়ার-টেবিলও নেই। প্রধান শিক্ষকের জন্য একটি টেবিল থাকলেও তা পায়া ভাঙা অবস্থায় আছে।
খাতা-কলমে সাতজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ থাকলেও বিদ্যালয়ে তাদের দেখা মেলে না। অনেকে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করেন। তবে এমপিওভুক্তর খবরে অনেকে বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছেন। তবুও বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষককে বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের সভাপতি জানান, অফিসের কাজে প্রধান শিক্ষক কালিয়া উপজেলায় গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কালিয়া উপজেলায় এমপিওভুক্ত হওয়ার মতো যোগ্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো না করে অবকাঠামোসহ অনেক ক্ষেত্রে অপূর্ণ পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা আগে কিছু কার্যক্রম চোখে পড়েছে। এমন দুর্বল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে আমাদের করার কিছু থাকে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল