প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে গতকাল(৩১ নভেম্বর) দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমটি সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর কাদেরের সাথে, অপরটি রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সাথে। উভয় বৈঠকেই প্রাথমিক ঐক্যপরিষদের নেতারা তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেন।
তবে দুটি বৈঠকের একটিও ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে। প্রথম বৈঠকে মহাপরিচালক বলেছেন প্রাথমিক শিক্ষকদের সব দাবিই যৌক্তিক এবং তাদের দাবির সাথে একমত । পরের বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, `প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শিক্ষকদের আন্দোলন সফল হয়েছে। তাদের আন্দোলনের ফলে টিও এবং এটিওদের গ্রেডও বাড়ছে। শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিবহাল আছেন।` তবে বৈঠকগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষকদের উপস্থাপিত কোনো দাবিরই কার্যত সুরাহা হয়নি। বৈঠকের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উপস্থিত নেতারা এ প্রস্তাব মানেননি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম বলেন, আমরা আন্দোলনে যেতে চাই না। সমাপনী পরীক্ষা সামনে রেখে আমরা আন্দোলনে বিরত থাকার চিন্তা ভাবনা করছি। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দিলে আন্দোলের দরকার হবে না। প্রাথমিক শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হবো।
শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে এর আগে শিক্ষকরা কয়েক দফায় কর্মবিরতি পালন করেন। ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েও তা করতে পারেননি পুলিশি বাধার কারণে। এরপরই তারা ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি পূরণের জন্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেন
আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য দূর করা না হলে ১৭ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন শিক্ষকরা। এরপরও দাবি পূরণ না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা। সারাদেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রেখে গতকাল দিনভর কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। গত ১৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে গঠিত ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ এ কর্মসূচি পালন করছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
