নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর সুফল আসছে না বইয়ে ‘ভুল’ থাকায়। এই ভুলের সংশোধনী পাঠানো হয়েছে স্কুলে স্কুলে। তবে সফটকপি থেকে প্রিন্ট করে নিতে হবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের। সে অনুযায়ী বইয়ের পৃষ্ঠায় লাইনে লাইনে গিয়ে দেখতে হবে কোন শব্দ, বাক্যে কী ভুল আর কী পড়তে হবে। এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ২৩টি বিষয়ের বইয়ের সংশোধনী। এর সঙ্গে আছে রুটিন এবং শিক্ষক সহায়িকা। সব মিলিয়ে ৬৬ পৃষ্ঠার সংশোধনীর অনলাইন/সফটকপি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শেষে আগামী সপ্তাহে শুরু হবে ক্লাস। বইয়ের এসব সংশোধনী পাঠদান করতে প্রিন্ট করে নিয়ে ক্লাসে যেতে হবে। শিক্ষকরা স্কুলে প্রিন্ট করতে পারলেও শিক্ষার্থীদের তা নিজস্ব ব্যয়ে বাইরের দোকান থেকে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
এনসিটিবি থেকে মাউশিতে পাঠানো হয়েছে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষরে জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের সংশোধনী (ইংরেজি ভার্সন), সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের সংশোধনী (ইংরেজি ভার্সন), সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের সংশোধনী, ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের সংশোধনী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ অনুযায়ী ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির সেশন রুটিন (সাধারণ স্কুল, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান), ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক সহায়িকা (বিজ্ঞান) সংশোধনী, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষক সহায়িকা (খ্রিস্টধর্ম শিক্ষা)।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যবইয়ের সংশোধনী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)। এই সংশোধনী তারা স্কুলে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।
জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জীবন ও জীবিকা, শিল্প ও সংস্কৃতি, ইসলাম শিক্ষা, হিন্দুধর্ম শিক্ষাসহ ১১টি বিষয়ে ১৫ পৃষ্ঠার সংশোধনী পাঠ নিতে হবে। প্রতি পৃষ্ঠা ৫ টাকা করে প্রিন্ট করতে একজন শিক্ষার্থীকে ৭৫ টাকা করে ব্যয় করতে হবে। আর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রিন্ট করতে হবে ১২ বিষয়ে ১৯ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ তাদেরও প্রতি পৃষ্ঠা ৫ টাকা করে ৯৫ টাকা ব্যয় করতে হবে। শিক্ষকদের ব্যয় করতে হবে আরেকটু বেশি। বিষয়ভিত্তিক সংশোধনীর সঙ্গে তাদের শিক্ষক সহায়িকা এবং নতুন ক্লাস রুটিন প্রিন্ট করতে হবে।আমাদের সময়
রাজধানীর বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, নতুন বইয়ে ভুল- এটাই কাম্য নয়। এখন পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় লাইন লাইন ধরে সংশোধনী পড়ানো অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তিনি বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রিন্ট করে নেব। শিক্ষার্থীদের এ জন্য একটা অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর এই ব্যয় সামান্য হলেও কোটি কোটি শিক্ষার্থী সরাদেশে। তা ছাড়া বইয়ের সঙ্গে যুক্ত না হলে এসব সংশোধনী পৃষ্ঠাগুলো শিক্ষার্থীরা হারিয়ে ফেলবে। অর্থাৎ তাকে আবার টাকা করে খরচ করে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
মতিঝিল বালক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সরকারি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, সরকার এত কোটি টাকা খরচ করে বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই বইয়ের এখন সংশোধনী, পুরো বই না ছাপানো হলেও যে অংশ সংশোধনী দিয়েছে এতটুকু নিজেরা ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করতে পারত। শহরের ছেলেমেয়েরা সচেতন, অভিভাবকরাও কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলের অভিভাবকদের জন্য এই ব্যয় বোঝা। এখন ফটোকপিতে অনেক খরচ, প্রতি পৃষ্ঠার মূল্য নেয় ৪ টাকা।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, যেই বিষয়গুলোতে সংশোধনী দেওয়া হয়েছে অধিকাংশই শব্দগত ভুল। বাক্য ভুল কম। তথ্যগত কিছুটা রয়েছে। ‘ভুল’ এই শব্দটা আতঙ্কিত করে তুলছে। আমরা শিক্ষকদের জন্য সংশোধনী প্রিন্ট করে দেব। আর শিক্ষার্থীরা তো ক্লাসে পাঠ নেবেই, তারাও বাসায় অনুশীলনের জন্য নিজেরা এই সংশোধনী সংগ্রহ করে নেবে। এটা ঠিক যে তা সরকারি ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করলে সুবিধা হতো।
সংশোধনী কেন ছাপিয়ে সরবরাহ করা হয়নি- জানতে চাইলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর নতুন বই ছাপানো হয়। এইসব বইও আগামী বছর নতুন করে ছাপানো হবো। চলতি শিক্ষাবর্ষে সংশোধনীর শিট দিয়ে পাঠদান হলেও আগামী বছর বই সংশোধন হয়ে ছাপা হবে। এবার একই বই দ্বিতীয়বার ছাপানো এবং ব্যয় সময় সাপেক্ষ্য।
পাঠ্যবইয়ে ভুলের কারণে ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ’। পাঠ্যবইয়ে ভুল বের করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি। এই কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে বিভিন্ন ভুল।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
