নিজস্ব প্রতিবেদক।।
চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম আট মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট ঋণের ২০ দশমিক ২৭ ভাগ ঋণই খেলাপি তালিকায় চলে গেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ছিল অগ্রণী ব্যাংকে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে অর্থাৎ গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ১৬৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের গড় হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাথে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্পাদিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আওতায় চলতি অর্থবছরে ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৩ হাজার ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। সে হিসাবে দুই মাসে বেড়েছে ৪৭১ কোটি টাকা।
এ দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) ঋণ ১০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। সে হিসাবে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার দ্বিগুণেরও বেশি। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি বেসিক ব্যাংকের ৫৮ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম সোনালী ব্যাংকের ১৫ শতাংশ।
এপিএর আওতায় চলতি অর্থবছরে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ১৫ শতাংশ)।
জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ১৮ শতাংশ)।
অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ২২ শতাংশ)।
রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ১৭ শতাংশ)।
বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ৫৮ শতাংশ)। বিডিবিএল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণের হার ৪৮ শতাংশ)।
জানা গেছে, গত বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সাথে এক বৈঠকে ঢাকা সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, জুনের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার শর্ত মোতাবেক কিভাবে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
