আল আমিন হোসেন মৃধা, শিক্ষাবার্তা, ঢাকাঃ মোঃ ছক্কু মিয়া। একজন নৈশপ্রহরী পদে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। ২০০১ সাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে ঐ পদে কাজ করে আসছিলেন চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। নবম দশম শ্রেণির অনুমোদন না থাকায় নন এমপিও হিসেবে চাকরি করে আসলেও ২০২১ সালের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্তির সুযোগ পেলে তাকে বাদ দিয়ে দশ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে অন্য একজনকে একই পদে নিয়োগ দিয়ে তাকে বাদ দিয়েছে বিদ্যালয়টির সভাপতি-প্রধান শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালের এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে ছক্কু মিয়ে ২০০১ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। এরপর টানা ২২ বছর নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর তথ্যেও ছক্কু মিয়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি হিসেবে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছে। কিন্তু চাকরিজীবনের শেষ দিকে এসে যখন এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবেন ঠিক তখনই তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন এবং বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টু। এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন আলী নুর নামের একজনকে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর বৈধ নিয়োগের বিপরীতে নতুন নিয়োগ প্রদান করায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছক্কু মিয়া। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন বৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত “নৈশ প্রহরী” ছক্কু মিয়া। ৩০/০১/২০০১ইং তারিখ থেকে উক্ত বিদ্যালয়ে অদ্যবধি কাজ করে আসছেন। এমতবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উক্ত পদে নিয়োগ প্রদান করার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে ছক্কু মিয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি সেই ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে কাজ করে আসছি। এতদিন এমপিওভুক্তও হতে পারিনি। অথচ আমি যখন এমপিও সুবিধা পাব ঠিক তখনই আমাকে বাদ দিয়ে একই পদে অন্যজনকে নিয়োগ প্রদান করা হলো। প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেন, আমি তো তোমাকে নিয়োগ দেয়নি। এতবছর চাকরি করছো আর কয় দিনই তোমার চাকরি আছে। তুমি চলে যাও আমরা অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর সহকারী পরিচালক মোঃ ইব্রাহীম খলীল জানান, ব্যানবেইসে হালনাগাদ করা নিয়োগের তালিকা বৈধ। স্কুল কলেজের কোন কর্মচারীকে যদি জোরপূর্বক চাকরি থেকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে ব্যানবেইসে হালনাগাদ করা তালিকায় তা ধরা পড়বে। এই তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন নম্বরে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টু বলেন, ছক্কুকে কে বা কারা নিয়োগ দিয়েছেন তা তো আমি জানি না। তবে এই পদে যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে তা বৈধ উপায়ে দেওয়া হয়েছে। যে কর্মচারীর তথ্য ব্যানবেইসে আছে তাকে কোন প্রক্রিয়ায় বাদ দিয়ে একই পদে বৈধ নিয়োগ প্রদান করলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা যে নিয়োগ দিয়েছে তা বৈধ উপায়েই দিয়েছি।
উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। কিছু বলার নেই। এতবছর চাকরি করার পর একজনকে কেউ এভাবে বাদ দিতে পারেন। প্রধান শিক্ষক কিংবা সভাপতির ভাই বা আত্মীয় হলে এমনটা করতে পারতেন ? বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শামছুল আলম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, পুরাতন পদে তো নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই কেউ যদি একই পদে চাকরি করেন। কিভাবে নিয়োগ দিয়েছেন কোন পদে নিয়োগ দিয়েছেন তা তো আমি বলতে পারব না। এর আগে বিদ্যালয়টির আগের সভাপতি একবার অভিযোগ দিলেন তার স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার তিনি লিখিত দিলেন ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এরপর আবার লিখিত দিলেন না স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। স্কুল টিতে কি যে হচ্ছে। তবে কোন বৈধ পদের বিপরীতে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
