এইমাত্র পাওয়া

একই যোগ্যতায় অন্যরা পান ১০ গ্রেড প্রাথমিক শিক্ষকরা পান ১৩!

ঢাকাঃ দেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার করলেও এখনো চাকরি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে শিক্ষকদের। সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ৪০ হাজার শিক্ষকের মনে সুখ নেই। প্রাথমিকে গ্রেড বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের পদকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা, সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ; দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান এবং প্রধান শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ থেকে পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়া; উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সহকারী ইন্সট্রাক্টর পদ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল করা এবং অবিলম্বে নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও এর আগে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, স্নাতক পাসে তারা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু স্নাতক বা সমমান পাসে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ অনেকেই ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অন্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি দেওয়া হলেও অন্ধকারেই রয়ে গেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ ছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কম। এর সাথে আছে গ্রেড বৈষম্য। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই পেশায় এলেও স্থায়ী হচ্ছেন না।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, বিভিন্ন সময় সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। প্রধান শিক্ষকরাও পদোন্নতি পান না। ফলে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক হতে পারছেন না। তাই আমরা গ্রেড বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবি করছি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, ৯ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করলেও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা নিশ্চিত হয়নি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিলেও এখনো সেই মর্যাদা পাইনি। নিয়োগ বিধিতে প্রধান শিক্ষক থেকে ওপরের পদগুলোতে পদোন্নতি রাখা হয়নি। একটা নিয়ম রাখা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকরা এটিও (উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা) বা সহকারী ইন্সট্রাক্টর হতে পারবেন, কিন্তু সেটি প্রমোশনের মাধ্যমে নয়, পরীক্ষার মাধ্যমে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক পদে থেকেই আমাদের অবসরে যেতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষকরা দুটি দাবিতে আন্দোলন করছেন। এগুলো হলো—বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশনকৃত সব মাদ্রাসা জাতীয়করণ করতে হবে এবং প্রাথমিকের মতো ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক আনসারী বলেন, আমাদের দাবি প্রধানত দুটি। দাবি আদায়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আমরা চাই, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করুক।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের গ্রেড বৃদ্ধি, পদোন্নতিসহ অন্যান্য দাবির বিষয়ে সরকার কী ভাবছে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, এ মুহূর্তে সরকারের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। আমাদের কাছে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০৪/২০২৩         

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.