কৃষি কর্মকর্তা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ইনচার্জ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লাঃ জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন কামাল হোসেন। একই সঙ্গে তথ্য গোপন করে ১২ বছর ধরে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে নিজ এলাকা কুমিল্লারই লালমাই উপজেলার ভাগমারা বাজার এরিয়া অফিসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে দুটো অফিসে চাকরি করছেন তিনি। এমন অভিযোগ পেয়ে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পেয়ে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর।

প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কামাল হোসেন ২০০৭-০৮ সালের দিকে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নেন। পরে তিনি ভাগমারা বাজার এরিয়া অফিসের ইনচার্জের দায়িত্ব পান। নিয়মিত অফিসও করেন তিনি। এই এরিয়া অফিসের অধীনে বিজরা, বিজয়পুর, হরিচর, কাশিনগর, নালঘর, মিয়াবাজার, সুয়াগাজি, চকবাজার ও ভূশ্চিবাজার প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জোন অফিস পরিচালনা করেন। প্রতি মাসে কোম্পানি থেকে ৩৫-৪৫ হাজার টাকা বেতনভাতা, একটি প্রাইভেট কার ও একজন ড্রাইভারের বেতন এবং টিএডিএসহ সব মিলে প্রায় লাখখানেক টাকা পান তিনি। গ্রাহক ভোগান্তি, কিস্তির টাকা আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জাল করে গ্রাহক প্রবাসে থাকা অবস্থায় পলিসি চালুসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দশম গ্রেডে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এ অফিসেও নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

লন্ডনপ্রবাসী মর্তুজা হক মুক্তা নামে এক বীমাকারী অভিযোগ করে বলেন, ‘লালমাই উপজেলার বাগমারা শাখায় ছেলেমেয়ের নামে দুটি বীমা চালু করি। কিন্তু ছেলেমেয়ে লন্ডনে থাকা অবস্থায় বাগমারা শাখার ইনচার্জ কামাল হোসেন তাদের স্বাক্ষর জাল করে বীমা প্রমাণপত্র দেয়। এ ঘটনায় সন্দেহ হলে তার বিরুদ্ধে অফিসে অভিযোগ করি।’

এ বিষয়ে কৃষি অধিদপ্তরের নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির কৃষিকর্মী আবদুল মান্নান বলেন, ‘কামাল স্যার যখন আমাদের ইউনিয়নে চাকরি করতেন তখন দেখতাম তিনি সাদা একটি প্রাইভেট কার নিয়ে আসতেন। আর ওই প্রাইভেট কারটি বাংগড্ডা বাজার এলাকায় রাখতেন। সেখান থেকে সিএনজিতে চড়ে রায়কোট মাহিনী বাজার আসতেন। আবার দুপুর ১টার আগে চলে যেতেন। নিয়মিত এ কৃষি অফিসারকে আমরা পেতাম না। তিনি সপ্তাহে দু-তিন দিন আসতেন।’

এ বিষয়ে প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লাকসাম এরিয়া অফিস ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কামাল হোসেন ২০০৭-০৮ সালের দিক থেকে আমাদের কোম্পানিতে চাকরি করে আসছেন। তিনি ভাগমারা বাজার এরিয়া অফিসের ইনচার্জের দায়িত্বে আছেন। তার অধীনে ১০টি অফিস চলে। তিনি বেতনভাতা, একটি গাড়ি, ড্রাইভারের বেতন ও টিএডিএসহ সব মিলে এক লাখ টাকা বেতনভাতা পান। আর কিছু জানতে হলে আমাদের হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এভাবে কামাল হোসেন বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি তথ্য গোপন করে একাই দুটি আয়কর রিটার্ন ফাইল পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বেশ কয়েকবার কল করা হলে তিনি আর রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা জেলা কৃষি কর্মকর্তা (ডিডি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্য গোপন করে একই ব্যক্তির দুটি লাভজনক পদে চাকরির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে তার (কামাল হোসেন) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৪/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.