এইমাত্র পাওয়া

অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইডেন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুজহাত ফারিয়া রোকসানা স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষার্থীর আঙ্গুল ভেঙে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। বরং অভিযোগ দিতে গিয়ে হল সুপার কর্তৃক উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী। এদিকে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়নি ছাত্রলীগও।

জানা যায়, লিখিত অভিযোগ প্রদানকালে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের রুমে গেলে শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে কথা বলেন তিনি৷ অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগপত্রের বিভিন্ন ভুল ধরতে ব্যস্ত ছিলেন ওই শিক্ষক। এই সংক্রান্ত ২১ মিনিটের একটি অডিও সময়ের আলোর হাতে এসেছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের একটি কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আঙুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুজহাত ফারিয়া রোকসানার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর এক পর্যায়ে টেনে তারা চুলও ছিঁড়ে ফেলেন রোকসানা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, রোকসানা টাকার বিনিময়ে ছাত্রীদের কলেজের আবাসিক হলে তোলেন। জোর করে নিজের কাপড় ছাত্রীদের দিয়ে ধুইয়ে নেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। এসবের প্রতিবাদ করায় গত মঙ্গলবার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটেয়ে তার হাতের আঙুল ভেঙে দেন রোকসানা৷ এতে আতঙ্কিত হয়ে ও নিরাপত্তাহীনতায় তিনি হল ছেড়েছেন। নিরাপত্তা না থাকায় তিনি হলেও ফিরতেও পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত রোকসানার বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিট-বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গত বছর এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে মারধর করেন রোকসানা। এ ছাড়া, গত বছর ১০ এপ্রিল বঙ্গমাতা হলের একটি কক্ষের সিট দখল করাকে কেন্দ্র করে রোকসানা ও তার অনুসারীরা সেখানকার বৈধ ছাত্রীদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বঙ্গমাতা হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নুজহাত ফারিয়া রোকসানা অপকর্ম করেও বারবার পার পেয়ে যান। তার কোনো শাস্তি হয় না। রোকসানার উচ্ছৃঙ্খল আচরণে তটস্থ থাকেন হলের শিক্ষার্থীরা। নানান ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনোই তাকে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হয়নি। এতে করে তিনি অপকর্ম করতে আরও সাহস পেয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুজহাত ফারিয়া রোকসানা গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরণেরে কোনো অভিযোগ কেউ দেয়নি। এটা ভুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওই মেয়ে আমার ছোটোবোন। আপনি প্রয়োজনে কলেজে আসুন। আমরা আছি। সবার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট হল সুপার নাজমুন নাহারের কাছে গেলে অভিযোগ আমলে নেয়ার পরিবর্তে তাকে হয়রানি করতে থাকেন। এ সংক্রান্ত যে অডিও সময়ের আলোর হাতে আছে তাতে শোনা যায়- অভিযোগপত্রের প্রত্যেকটি লাইন পড়ে শোনাচ্ছিলেন হল সুপার নাজমুন নাহার। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়—’এ অভিযোগপত্র কে লিখেছে? খাতার মার্জিন দাওনি কেন? এত ভুল কেন?’ এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়—’ম্যাম, আমাকে ষ্টাম্প দিয়ে মারছে; বঁটি দিয়ে মারতে আসছে।’

পরে এক ছাত্রলীগ নেত্রীর কণ্ঠে শোনা যায়—’যার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, শুধু সে থাকবে। বাকি সবাই বের হয়ে যাও।’ এসময় তিনি ছাত্রীদের ধমক দিতে থাকেন। অভিযোগ পত্র দিতে যাওয়া এক শিক্ষার্থী সময়ের আলোকে বলেন, ‘নাজমুন ম্যামের সামনে ওই নেত্রীর ধমক খেয়ে আমরা বেরিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে জানতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সুপার নাজমুন নাহার বলেন, বানান ভুল করলে শাসন করার অধিকার আমার আছে। সকল শিক্ষার্থীই আমার জন্য এক। আমার কাছে সবাই শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ বা আলাদা কিছু নেই। আমি তো ছাত্রলীগের মেয়েদেরও ধমক দিয়েছি। সেই রেকর্ড তো করে নাই তারা। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা অনেকটাই সমাধান হয়ে গেছে। রোববার কার্যদিবসে আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারও বসবো।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রাজনীতির শৃঙ্খলা পরিপন্থী। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, সেটি অবশ্যই অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৫/০২/২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.