গাইবান্ধার অধিকাংশ প্রাথমিকে নেই শহীদ মিনার

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে বীর বাঙালি এদিন রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মৃতিকে স্মরণ করতে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। গৌরবোজ্জ্বল ও স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি স্মরণে শহীদ মিনারে নিবেদন করা হয় শ্রদ্ধার্ঘ। কিন্তু দীর্ঘ ৭১ বছর পরও গাইবান্ধার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় প্রায় ৬৬ শতাংশ (৬৫ দশমিক ৭৩) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৫টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার আছে ৫০২টি বিদ্যালয়ে, অর্থাৎ শহীদ মিনার আছে প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (৩৪ দশমিক ২৬)। অর্থ বরাদ্দ না থাকাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিনেও এসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা যায়নি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো হারুনর রশিদ. বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে একটি নির্দেশনা আছে সব বিদ্যালয়ে একই আকার ও আয়তনের শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। যারা নিজস্ব উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করবে, তাদের জন্যই এই নির্দেশনা।

তিনি বলেন, ‘বাঙালি চেতনা ও আমাদের জাতিসত্ত্বার প্রথম উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ জরুরি।’

এ সম্পর্কে নাগরিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ গাইবান্ধা’ এর সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের শর্তের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০২/২৩      


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.