সাত মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হতে পারে সিলেট!

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে বৃহস্পতিবার। সকাল ৯.৫৬ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৪ দশমিক ৩। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো মেঘালয়। মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় সিলেটে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলে আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

সিলেটকে ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে বার বার সতর্ক করা হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন আরো ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তুরস্ক ও রাশিয়ার নগরায়ণ ভূমিকম্প হলে গোটা সিলেট মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে- এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রাক প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের কথা চিন্তা না করে নির্মিত হয়েছে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলেই সিলেটের ৪২ হাজার বহুতল ভবনের ৮০ শতাংশ ভেঙে পড়তে পারে। পাশাপাশি লক্ষাধিক আধাপাকা ও কাঁচা ঘরবাড়ি বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনও অর্থসংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জরিপ বা পরীক্ষা করতে পারছে না।

২০২১ ও ২২ সালে কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর ঝুঁকি মোকাবিলায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ নেয়। তবে নানা সীমাবদ্ধতার অজুহাতে তা তা বাস্তবায়ন হয়নি। ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে ২০২১ সালের মে মাসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া ভবনের তালিকা করে সিলেটের ৬টি বিপণিবিতান বন্ধ করে দিয়েছিলো সিলেট সিটি কর্পোরেশন। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের খুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ বিপণিবিতানগুলো।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ২০২১ সালের টানা ছয় দফা ভূমিকম্পের পর বড় ভূমিকম্পে ক্ষতি কমিয়ে আনতে নগরীর সব বহুতল ভবনের ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষা ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। সিলেট নগরীর ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের কথা চিন্তা না করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৮০ শতাংশ বহুতল ভবন ভেঙে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যে ভেঙে ফেলতে হবে তা নয়- ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন ভেঙে না ফেলে রেক্টোফিটিংও করা যেতে পারে। সাপোর্টিং পাওয়ার দিয়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পর ২০২১ সালের ৩০ মে নগরীর ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিসিক। বেশ কয়েকটি বিপণিবিতান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ভবনগুলোর ভূমিকম্পের সহনশীলতা পরীক্ষার জন্য কাজ চলছে। বিকল্প হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ভবনগুলোতে রেক্টোফিটিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিয়েও কাজ চলছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০২/২৩      


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.