আন্দোলনে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক :

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বুধবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যাঞ্চের ওপর ঘুমাতে দেখা গেছে।

তবে নির্দেশনা অমান্য করে যারা আন্দোলনে যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য আন্দোলকারী শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বেতন-বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনে নেমেছেন সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’। এই পরিষদের মাধ্যমে গত সোমবার থেকে তারা আন্দোলনে নামেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে গত সোমবার সারা দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। পরদিন ১৫ অক্টোবর দুই ঘণ্টা ও আজ বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। তাদের এ কর্মসূচি পালনের ফলে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ক্লাস করাননি শিক্ষকরা।

বুধবার সকাল থেকে তারা এ আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেন। দুপুর ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করেন। এ কারণে বুধবার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাঞ্চের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ক্লাস টাইম পার করে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ কারণে অভিভাবকরা শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। আগামীকাল থেকে আর বিদ্যালয়ে পাঠাবেন না বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক।

এছাড়াও আগামীকাল ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরপরও দাবি আদায় না হলে ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে যাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদের সাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামে  একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। বলা হয়, এ পর্যায়ে কোন ধরনের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পলিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এ ধরনের  কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃঙ্খলা ও আপিল  বিধিমালা-২০১৮ অনূযাযী সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই এ ধরনের কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) বদরুল হাসান বাদল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাই এটি নিয়ে কোন ধরনের আন্দোলন না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নির্দেশনা উপেক্ষ করে যে সকল শিক্ষক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করতে ডিপিইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের সনাক্ত করে চাকরি বিধি মোতবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য  নিরসণে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তাতেও আমাদের দাবির বাস্তবায়ন হয়নি।

মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেড দিতে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসলেও, এ প্রস্তবনায় প্রধানদের ১০তম গ্রেড দেয়া হলেও সহকারীদের ১২তম গ্রেড দিতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।  এটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নির্দেশনা অমান্য করে কেন আন্দোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় চার লাখ শিক্ষক আন্দোলনে নেমেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আমাদের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। শিক্ষকরা আস্থা হারিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.