শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বরগুনার বেতাগী দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের স্ত্রী, চাচি শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালিকা, ভাগিনা এবং মেয়েসহ দশ জন বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন একই মাদরাসায়। সদ্য তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে মেয়ে এবং ভাগিনার চাকরি হওয়ায় বঞ্চিতরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বরগুনার বেতাগী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯৮৭ সালে দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধ্যক্ষের স্ত্রী ইবতেদায়ি শাখায় সহকারী শিক্ষক আবিদা সুলতানা, দাখিল শাখায় সহকারী শিক্ষক পদে মশিউর রহমান, দাখিল শাখার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সহকারী পদে চাচি শাশুড়ি আয়েশা সিদ্দিকা, সদ্য গত ৬ জানুয়ারি কর্মচারী নিয়োগ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে নিয়োগ পেয়েছে মেয়ে সুমাইয়া সুলতানা শেফা এবং অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে ভাগিনা মো. মারুফ হোসেন। এ ছাড়া পরিবারের নিকটাত্মীয় আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ দশটি পদে চাকরি করছেন।
সদ্য কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষা চলাকালীন অনিয়ম, অধ্যক্ষের মেয়েসহ নিকটাত্মীয় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন নিয়োগবঞ্চিত এক পরীক্ষার্থী।
জানা গেছে, দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদরাসায় সর্বশেষ বেসরকারি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে নবসৃষ্ট পদে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী একজন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন, নিরাপত্তাকর্মী একজন এবং শূন্যপদে একজন নৈশ্যপ্রহরীসহ চারটি পদের চাহিদা উল্লেখ করা হয়। শূন্য ও নবসৃষ্টসহ চারটি পদের বিপরীতে ২৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
মাদরাসা এলাকার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে জসিম উদ্দিন বলেন, দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদরাসায় অধ্যক্ষের আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্নপদে ১০ জন চাকরি করছেন। এটা একটি পারিবারিক মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয় দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, একটি পদে আমার মেয়ে একাই প্রার্থী ছিল। এ কারণে সে নিয়োগ পেয়েছে। আমি তো নিয়োগ কমিটির সঙ্গে যুক্ত নই।
তথ্য জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয় উপাধ্যক্ষ মাওলানা নূরুল ইসলামকে। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান বলেন, আলিম মাদরাসা বিধায় এই নিয়োগে সাথে আমি সংশ্লিষ্ট নই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এর সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিয়োগ কমিটির মহাপরিচালকের প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক মাহফুজা ইয়াসমিন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগকারী সুমি আক্তার তো মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৪/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
