নতুন বছরে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই নতুন শিক্ষাক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে। আগেই জ্ঞাত ছিল যে এই বছর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। শিখনফল কেন্দ্রিক শিক্ষাক্রম থেকে বেরিয়ে গিয়ে যোগ্যতাভিত্তিক শিখনে পরিবর্তত হতে যাচ্ছে বর্তমান শিক্ষাক্রম। প্রাথমিকে প্রথম শ্রেণি ও মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন আসবে পরীক্ষা পদ্ধতিতেও।
শিক্ষকদের নতুন এ কারিকুলামে দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে তা কতটুকু সফল হবে সেটা নির্ভর করবে শিক্ষকরা কতটুকু দক্ষতার সাথে তা শ্রেণিতে প্রয়োগ করতে পারছেন তার ওপর। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় সৃজনশীল পদ্ধতির প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং তারপরেও শিক্ষকদের একটি বড় অংশই সৃজনশীর পদ্ধতি আয়ত্ব করতে না পারার বিষয়টি ইতিমধ্যেূই আলোচিত হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা পরিবর্তনের মধ্যে এসে গেছি এবং এখন তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতেই এই উদ্যোগ। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পরিবর্তন জরুরি। উন্নত বিশ্বের সাথে মিল রেখে সবদিক থেকেই আমাদের প্র হতে হবে। আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তন হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকবে। আধুনিক বিশ্বে ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। আর বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আবশ্যক। গতানুগতিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন আসতে চলেছে।
এ বছর তিন শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে দ্বিতীয়, তৃতীয়,চতুর্থ,অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে কার্যকর হবে এবং তারপরের বছর পঞ্চম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলামে বই পাবে। এরপর একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে আমরা প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে একটি নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় চলে যাবো। এর মধ্যে চলবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতেই এই উদ্যোগ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর থেকে একটি শিক্ষাক্রম চলে আসছিল। এরপর ১৯৯৫ সালে ও ২০১৩ সালে আরও দুটি শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হয়। এরমাঝে আবার ১৯৯২ সালে মূল্যায়নে এমসিকিউ যোগ করা, ২০০৮ সালে গতানুগতিক মুখস্ত’ বিদ্যা নির্ভর প্রশ্ন পদ্ধতির পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রয়োগ এবং ২০০১ সালে গতানুগতিক নম্বরের পরিবর্তে গ্রেডিং পদ্ধতির ফল তৈরি চালু হয়। এখন শুধু প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তন অথবা পরীক্ষার পরিবর্তন নয় বরং পাঠ্যবইয়েরও পুরোপুরি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
গণমাধ্যমে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল হিসেবে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে উল্লিখিত চেতনা মানবিক মর্যাদা,সামাজিক ন্যায়বিচার,সাম্য। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র ও ধর্মনিরেপক্ষতা বিবেচনা করে নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে। একটি নতুন পদ্ধতি বা পরিকল্পনা প্রথমে চ্যালেঞ্জিং হয়। কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে যেগুলো পরিমার্জন হবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। তা না হলে পরিবর্তন আসে না।
কার্যক্রম শুরু না হলে তার পরিবর্তন হওয়াও সম্ভব হবে না। বহুদিন ধরেই শিক্ষায় পরিবর্তনের কথা চলে আসছিল। প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন কারিকুলাম যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা,ইংরেজি,গণিত,বিজ্ঞান,সামাজিক বিজ্ঞান,ধর্মশিক্ষাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিল্পকলা বিষয় থাকবে। আর মাধ্যমিকে বাংলা,ইংরেজী,গণিত,বিজ্ঞান,ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি জীবন ও জীবিকা,ডিজিটাল প্রযুক্তি,স্বাস্থ্য সুরক্ষা,ধর্মশিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়েও শিক্ষার্থীরা শিখবে।
আর যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তা হলো পরীক্ষার চাপ কমে যাওয়া। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নতুন কিছু শেখা। এই নতুন কিছু শিখতে গিয়ে তাদের ঘনঘন পরীক্ষায় বসতে হবে এবং তা করতে গিয়ে প্রচন্ড মানসিক চাপ নিতে হবে- শিক্ষার উদ্দেশ্য এটা হতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে মূল্যায়নে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দু পক্ষই অভ্যস্ত’ হয়ে গেছে।
এখন সেটা যদি সেভাবে না হয়ে একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে প্রথমে একটু ভিন্ন অনুভূতি আসা স্বাভাবিক। যাই হোক, সত্যিকার অর্থে পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীর মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে এবং সেই সাথে উদ্বিগ্ন। আমরা যারা লেখাপড়া শিখেছি তারা সবাই এই অনুভূতির কথা জানি। কিš‘ স্কুলের সাময়িক পরীক্ষার পাশাপাশি একজন ছাত্রছাত্রীকে আমাদের দেশে শিক্ষাজীবনের একেবারে শুরু থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। যার নাম ছিল পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষা আগেও ছিল পরে এই দুটো পাবলিক পরীক্ষা যোগ হয়। ছাত্রছাত্রীরা আর কোনোদিন এই পরীক্ষার সম্মুখীন হবে না।
কারণ নতুন শিক্ষাক্রমে যে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই দুই পাবলিক পরীক্ষা বাতিল, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না থাকা, দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে এসএসসি পরীক্ষা এবং উ”চ মাধ্যমিকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দু’টো পাবলিক পরীক্ষা। প্রতি বর্ষ শেষে বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা হবে। এরপর এইদুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।
তবে মূল্যায়ন থাকছে। ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। যার বেশিরভাগই থাকছে শিক্ষকদের হাতে। সুতরাং দক্ষতার জায়গাটা অর্থাৎ এই মূল্যায়ন পদ্ধতি কতটা সফলভাবে কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর। কারণ এতদিন প্রশ্ন পদ্ধতি সৃজনশীল হলেও খাতায় মার্কস পাওয়া নির্ভরশীল ছিল লেখার ওপর। শতভাগ লিখেই মার্কস তুলতে হতো। কিন্তু এখন শিশুর নানাবিধ দক্ষতা,গুণাবলী যেমন এসাইনমেন্ট যেগাযোগ দক্ষতা,উপস্থাপন,হাতে-কলমে কাজ ইত্যাদি পদ্ধতিগুলোর ওপর মার্কস থাকবে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, যে শিশুটি ভালো লিখতে পারে না সেই শিশুটিই ভালো উপস্থাপন করতে পারে অথাব ভালো কোনো হাতের কাজ করতে পারে। অর্থাৎ তার বহুমুখী দক্ষতা বের করে আনার চ্যালেঞ্জ থাকছে। এখানে সফল হলেই নতুন কারিকুলামও সফল হবে। তবে এই দক্ষতা অর্জন করতে সময় দরকার হবে। ধীরে ধীরে শিক্ষরা বিষয়টি আয়ত্ব করবেন এবং নিজেদের দক্ষ করে তুলবেন।
লেখাপড়ায় মূল্যায়ন আবশ্যক। সেই মূল্যায়ন যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হয় অর্থাৎ আজকের পরীক্ষার মতো তখন তা ছাত্রছাত্রীর জন্য পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। কারণ তাকে তো শুধুমাত্র এসব পরীক্ষা দিতে হতো না। এর সাথে রয়েছে তার প্রাইভেট কোচিংয়ের সাপ্তাহিক,মাসিক পরীক্ষার রীতি।
বহু বছরের পরীক্ষা রীতিতে আমাদের দেশের অনেক অভিভাবকের মাথায় একটি বিষয় ঢুকে গেছে যে পরীক্ষা ছাড়া জীবন অর্থহীন আর সেই পরীক্ষা যেকোনোভাবেই তাকে ভালো ফলাফল করতেই হবে। অর্থাৎ পরীক্ষা এবং মার্কস এই দুইয়ের মধ্যে আটকে গেছে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মেধা। আবার পরীক্ষার চাপ কমায় ছাত্রছাত্রীর ওপর কি প্রভাব পরবে সেটাও ভাবার বিষয়। কারণ বহু বছর ধরেই যে প্রথা মাথায় গেঁথে গেছে তা এত সহজে দূর হবে না। শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের দাবী ছিল দীর্ঘদিনের। অথচ আমাদের শিক্ষা আটকে আছে পরীক্ষা এবং মুখস্ত পদ্ধতিতে। মুখস্ত’ পদ্ধতি দূর করতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন করা হলেও মূলত মুখস্ত’ বিদ্যার প্রভাব থেকে ছাত্রছাত্রীদের মুক্ত করা যায়নি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা যে একেবারে শৈশব থেকেই প্রচন্ড চাপে থাকে তা বলাই বাহুল্য। পরীক্ষা আমাদের দেশে রীতিমত ভীতিকর একটি শব্দ।
কারণ পরীক্ষা মানেই সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি লেখাপড়া করা, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভাবগম্ভীর পরিবেশে কিছু সময় কাটানো, পাস-ফেলের টেনশন এবং সর্বোপরি মা-বাবা ও আত্বীয় স্বজনদের ব্যঙ্গাত্বক মন্তব্য। ফলস্বরুপ প্রতিটি শিক্ষার্থীই কার্যত পরীক্ষা থেকে সরে থাকতে চায়। আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের এই প্রচন্ড চাপ কতৃপক্ষ অনুভব করেছেন। এ কারণেই একটি যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতদিন গুলোতে এক ধরনের মানসিক দুশ্চিন্তায় সময় কাটে ছাত্রছাত্রীদের।
অনেকে আবার অতিরিক্ত টেনশনে রাতে ঘুমের মাঝেও দুঃস্বপ্ন দেখে ফেলে। কয়েকটা উন্নত দেশের কথা পড়েছি। যেখানে দশ বছরের আগে নাকি কোন পরীক্ষা দিতে হয় না। আমার জানতে ইচ্ছে করে তাদের শৈশবটা কেমন হয়। নিশ্চয়ই খুব আনন্দের। গতানুগতিক পদ্ধতিতে পড়ালেখা করা মানে প্রতিযোগীতা করা ছিল। সেই প্রতিযোগীতায় কেউ প্রথম হয় আবার কেউ ফেল করে বসে। ফেল করে কেউ কেউ আতœহত্যাও করে। কারণ সমাজে তাকে নানা তীক্ষè কথা শুনতে হয়। ফলে সে আরও চাপে পরে যায়। এখানে সরাসরি পাস বা ফেল না থেকে বিভিন্ন মূল্যায়ন ব্যবস্থা রয়েছে।
পরীক্ষা অর্থ একজন শিক্ষার্থীর মেধার মূল্যায়ন করা। কিন্তু গতানুগতিক পদ্ধতিতে এই মূল্যায়ন আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ফলে একজন শিক্ষার্থীর পুঁথিগত মূল্যায়ন করা সম্ভব হলেও তার ব্যক্তিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল্যায়নের বিষয়টি একটু ভিন্ন যা নির্ভর করবে শিক্ষকের দক্ষতার ওপর। এখানেই প্রাথমিকভাবে একটু সতর্ক থাকতে হবে। যদিও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিš‘ এই যে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয় সেখানে বহু বছর পার হলেও সব শিক্ষককে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দক্ষ করা যায়নি। সেখানেই ভয়।
আরও একটি ভয় আছে। তা হলো শিক্ষকদের হাতে নম্বর থাকায় প্রাইভেট নির্ভরতা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, মার্কস পেতে আজও অনেক ছাত্রছাত্রী না চাইলেও প্রাইভেট পড়তে যায়। হয়তো বেশিরভাগই। ফলে সে পাঠ অগ্রগতির সাথে সাথে নিজেকে কতটুকু শৃঙ্খলায় আনতে পারছে তার মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না। সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করতে হবে সতর্কভাবে। আমাদের দেশে শেখার মূল বিষয়টা পাঠ্য বই এবং পরীক্ষায় ভাল ফলাফলেই আটকে আছে। একটা মেয়ে যদি গণিতে ভাল করে কিš‘ ইংরেজীতে ভাল না করে সেক্ষেত্রে সে ঐ বিশেষ বিষয়ে দুর্বল কিš‘ কোনক্রমেই সে সার্বিকভাবে খারাপ নয়।
সব বিষয়েই দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে এমন ধারণা ঠিক নয়। কেউ ভালো দৌড়ায়, কেউ ভাল গান করে, কেউ আবৃত্তি করে, কেউ বা নাচে আবার কারও একাডেমিক দিক শক্তিশালী। সেই বিষয়টা বের করে আনা প্রচেষ্টা হচ্ছে। যোগ্যতা ভিত্তিক ব্যবস্থা। কারণ লিখিত পরীক্ষা মানেই চ্যালেঞ্জ। টিকে থাকার যুগে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। তা হোক সে একাডেমীক বা হোক সে চাকরির বাজারের।
পরীক্ষার হাত থেকে যেন নিস্তার মেলে না। পরীক্ষা মানেই টেনশন। ঘুমের ভেতর পরীক্ষার টেনশন, খাওয়ার টেবিলে টেনশন। সব মিলিয়ে খুব খারাপ অবস্থায় থাকে ছাত্রছাত্রীরা। পরীক্ষার দিনগুলো তাই তাদের কাছে খুবই দুর্বিষহ। পরীক্ষা শেষে যেন শান্তির দিন খোঁজে। পরীক্ষাকে চাপ হিসেবে নেয়নি এরকম একজন মানুষও এদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। একাডেমিক পরীক্ষা শুরু হয় সেই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে। ওরা পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্ত হোক এটা যেমন আমরা চাই পাশাপাশি স্কুলে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। সর্বোপরি আমাদের শিক্ষা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এখানে কতটুকু সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে তার জন্য আরও অনেক সময় দিতে হবে। কারণ প্রশিক্ষণের বিষয়টি চলমান। বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করে শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হবে।
লেখক-
অলোক আচার্য
প্রাবন্ধিক ও কলামিষ্ট
পাবনা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
