এইমাত্র পাওয়া

এসএমএসের জন্য ফি নেয়া যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

টাকা জমা বা উত্তোলনের পর ব্যাংক থেকে গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়। ছয় মাস অন্তর দেয়া হয় অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি। ব্যাংকের এসব সেবাগ্রাহককে বিনামূল্যে দেয়ার নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এসব সেবার বিপরীতে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে সেবা মাশুল কাটিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নতুন এক নির্দেশনায় বলা হয়, প্রত্যেক গ্রাহককে ছয় মাস ও বছরান্তে ব্যাংকের আমানত ও ঋণ হিসাবের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ বিনামূল্যে দিতে হবে। ই-মেইল, ডাক বা কুরিয়ারযোগে এগুলো পাঠাতে হবে। পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের এ তথ্য জানাতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এ জন্যও গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো রকম সেবা মাশুল নেয়া যাবে না।

কর্তন করা যাবে না গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের কোনো অর্থ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ১০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক মাস্টার সার্কুলারে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও অ্যাকাউন্টের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ প্রদানের জন্য সেবা মাশুলের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। নির্দেশনার (ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, ছয় মাস অন্তর ও বছরে দুইবার ব্যাংকের আমানত ও ঋণ হিসাবধারী প্রত্যেক গ্রাহককে হিসারের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ (হিসাব বিবরণীসহ) প্রদান করতে হবে। তবে এ জন্য কোনো সেবা মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। দুইবারের বেশি কেউ হিসাবের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ নিতে চাইলে তার জন্য প্রতিবার ১০০ টাকা সেবা মাশুল আদায় করা যাবে।

সচ্ছলতা সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ফি আদায় করা যাবে। আর চেক ফেরতের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ টাকা চার্জ আদায় করা যাবে। ব্যাংকগুলোর ঘোষিত বা প্রকাশিত তালিকার বাইরে কোনো রকম গোপনীয় ফি বা চার্জ আদায় করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে বাড়তি সেবা মাশুল আদায় করার অভিযোগ আছে। এমন অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে উত্থাপন হওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এক নির্দেশনায় বলা হয়, প্রত্যেক গ্রাহককে নিয়মিতভাবে অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে ‘লেনদেন বিবরণী’ ই- মেইল/ডাক/কুরিয়ার যোগে প্রেরণের জন্য আবার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ ছাড়া, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে অর্থাৎ বছরে দু’বার ব্যাংকের আমানত ও ঋণ হিসাবধারী প্রত্যেক গ্রাহককে হিসাবের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ (হিসাব বিবরণীসহ) প্রদানের জন্য ব্যাংক থেকে কোনো প্রকার চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

একইসাথে কোনো ধরনের চার্জ আদায় ছাড়াই মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ‘লেনদেন বিবরণী’ ও ‘স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ’ প্রেরণের বিষয়টি গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। তবে এজন্য কোনরূপ চার্জ/ফি আদায় করা যাবে না। হিসাব খোলার ফরমে গ্রাহকের মেইলিং ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের সঠিকতা যাচাই করতে হবে এবং ন্যূনতম বার্ষিক ভিত্তিতে তা হালনাগাদ করতে হবে। হিসাব সম্পর্কিত প্রতিটি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি সাপেক্ষে অবহিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহককে তথ্য ও সেবা প্রদান করা যাবে।

তবে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার হতে বিরত থাকতে হবে। গ্রাহককে প্রেরিত ‘লেনদেন বিবরণী’ ও ‘স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদের’ অনুলিপি হার্ডকপির পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। একই সাথে তথ্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.