নিউজ ডেস্ক।।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারনে সবার মত বিপদে আছে শিক্ষার্থীরাও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের হোটেলসমূহের খাবারের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে আবারও। দোকানীরা বলছে সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারনে তারাও অসহায়।
সরকারি বিপণন সংস্থা (টিসিবি) প্রতিদিন প্রকাশ করে বাজারদরের তালিকা৷ গত শুক্রবার পণ্যের তালিকা ঘেঁটে দেখা গেল, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০টি পণ্যের মধ্যে ১৮টির দামই বেড়েছে৷ এগুলোর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল, পাম তেল, পেঁয়াজ, মুরগি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, চিনি, ডিম, জিরা ইত্যাদি৷ চার দিন আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা৷ শুক্রবার সেটা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা৷ ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিনের লিটারে আট টাকা বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়৷ বাজারে এক লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়৷ এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা৷ এখন সেটা ৮০-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ ডিমের ডজন এখন ১১০ টাকা৷
ক্যাম্পাসের বটতলায় প্রতিটি খাবারের দোকানে নতুন মূল্য তালিকা টাঙানো হয়েছে। ভাত, পরোটা থেকে শুরু করে সকল আইটেমেরই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ থেকে দশ টাকা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এর অন্যতম কারন বলে জানায় দোকান মালিকরা। এছাড় এক নম্বর গেট, জয় বাংলা গেট এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন আবাসিক এলাকাসমূহের হোটেলের খাবারের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে হঠাত করেই।
বটতলার এক দোকানী বলেন, “আমাদের তো কিছু করার নাই। সবকিছুর দাম বাড়ছে। বাড়তেই আছে, কমার কোন নাম নাই। আমাদেরও তো পেট চালানো লাগবে”।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় পনের হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। এছাড়া অনেকে টিউশনি কিংবা পার্ট টাইম চাকরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। দ্রব্যমূল্য ও খাবারের মূল্য বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পরেছে। ডাইনিং, ক্যান্টিনে মূল্য কিছুটা কম হলেও খাবারের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেকেই।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান বলেন, “টিউশনির টাকায় চলতে হয়। এই মুহুর্তে এরকম দাম বৃদ্ধিতে বিপদে আছি। পরিবারও বিপদে আছে। খাবারের দাম অনেক বাড়ছে, এখন মাস চলতে হিমশিম খাওয়া লাগে”।
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেনও একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। “এভাবে চলতে থাকলে তো দুই দিন পর ভিক্ষা করা লাগবে। মাস্টার্স পাশ করবো কিছুদিন পর, চাকরির নিশ্চয়তা নাই, ভিক্ষা করতেও সম্মানে লাগে। আমরা যাবো কই?”।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
