পাঁচ দিনে একাদশের ৪২ লাখ পাঠ্যবই ছাপার টার্গেট

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে একাদশের ৪২ লাখ পাঠ্যবই ছাপার টার্গেট নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। যদিও বুধবার থেকে একযোগে একাদশের সব শিক্ষার্থীকে সশরীরে ক্লাসে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মূল পাঁচটি বই এখনো কোনো কলেজেই পৌঁছানো হয়নি। এমনকি এই বই ছাপার কাজই শুরু হয়েছে মাত্র দু’দিন আগে। অন্য দিকে এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, ক্লাস শুরুর আগেই সব কলেজে এবং সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে যাবে। বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ২ মার্চ বুধবার থেকে একাদশের ক্লাস শুরু হবে। যদিও এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পাওয়া নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। অনেকে বলছেন, ক্লাস শুরু হওয়ার আর মাত্র তিন দিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে বই পাবে না কোনো শিক্ষার্থী।

বই ছাপার কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রেই এবার অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই শুরু থেকেই এই সংশয় রয়েছে। এ দিকে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২ মার্চ থেকে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর মূল চারটি বই এখনো ছাপা শুরু হয়নি। বইগুলো হচ্ছে সাহিত্য পাঠ (গদ্য ও কবিতা), বাংলা সহপাঠ (উপন্যাস ও নাটক), ইংলিশ ফর টুডে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ইংরেজি ও বাংলা ভার্সন)। অনেকে বলছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্টরা বই ছাপার বিষয়ে গুরুত্ব না দেয়ায় দেরিতে বই ছাপা শুরু হয়েছে।

সূত্রমতে এবার পাঁচটি লটে মোট বই ছাপতে হবে ৪২ লাখের বেশি। কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী প্রিন্টার্স, ব্রাইট প্রিন্টার্স, আনন্দ প্রিন্টার্স ও ফাহিম প্রিন্টার্স। অগ্রণী প্রিন্টার্স কাজ পেয়েছে দুই লট। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মুদ্রণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চুক্তি অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে বই ছাপিয়ে বাঁধাই করে সারা দেশে সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ীই দেখা যাচ্ছে ২ মার্চের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিতে ১০ দিন সময় দেয়া হলেও ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের। আর ক্লাস শুরু হচ্ছে ২ মার্চ। কাজেই নির্ধারিত তারিখে শিক্ষার্থীরা কোনো মতেই হাতে বই পাবে না।

নির্ধারিত সময়ে বই ছাপিয়ে সারা দেশে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না এ বিষয়ে এক প্রকাশক বলেন, আগামী ২ মার্চ যদি বই উদ্বোধন করা হয় তাহলে ৩ বা ৪ মার্চ থেকে সারা দেশে বই পাওয়া যাবে। ঢাকায় পরদিন থেকেই পাওয়া যাবে। আমাদের এক বছরে বই বাজারজাত করার কথা রয়েছে। এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে জানান, আমার চেষ্টা থাকবে ২ মার্চের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেয়ার। তবে আমাদের যে এসেসমেন্ট তাতে ঢাকার সব কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ তারিখেই বই হাতে পাবে।

তবে ঢাকার বাইরের কলেজগুলোতে হয়তো একদিন বা দু’দিন দেরিতে বই পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, এনসিটিবির পরিদর্শকদের সমন্বয়ে গঠিত টিম ছুটির দিনসহ প্রতিদিনই ছাপাখানাগুলোতে পরিদর্শন করছে। আমরা যে টার্গেট নির্ধারণ করে দিয়েছি আশা করছি সে অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন বই ছাপার কাজ যেহেতু দেরিতে শুরু হয়েছে তাই সব বই ছাপা, বাইন্ডিং ও সরবরাহ করা ২ মার্চের মধ্যে সম্ভব নয়। কিছু বই ছাপিয়ে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। পরে হয়তো পর্যায়ক্রমে বই কলেজগুলোতে পাঠানো হতে পারে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.