নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েই চলেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের প্রধান খাবার চাল-ডাল-তেল-সবজির দাম হু হু করে বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার টিসিবি ও ওএমএসের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করলেও কোনো কাজেই আসছে না এসব পদক্ষেপ। প্রতিদিনই বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। গত সপ্তাহে খুচরাবাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা করে বেড়েছে। আর গত এক বছর আগে একই সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। চালের পাশাপাশি ডালের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১০-৩৫ টাকা পর্যন্ত।
এতে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। বাজার করতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গুটি স্বর্ণা অর্থাৎ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা কেজিতে। অথচ ২০২১ সালের একই সময়ে এই চালের দাম ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। বাজারে মাঝারি মানের পাইজম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকা কেজিতে। এক বছর আগেও এই চাল বিক্রি হতো ৪৫-৪৮ টাকা কেজিতে। এ ছাড়াও বাজারে ভালো মিনিকেট চাল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজিতে। মাঝারি মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়, যা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়াও নিম্নমানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। গত বছর এই চাল সর্বোচ্চ ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
ভালো মানের নাজিরশাইল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজিতে। মাঝারি মানের নাজির বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা এবং নিম্নমানের নাজির বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি। গত বছর এই চাল বিক্রি হয়েছিল ৫৮-৬৫ টাকা কেজিতে। অন্য দিকে কাটারি ভোগ ১০০ টাকা এবং চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই মাস ধরে চালের দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে নতুন করে আরেক দফা বেড়েছে। এ বছর কোনো বন্যা হয়নি। তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারপরও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। আমাদের যে পরিমাণ ধান প্রয়োজন গত অর্থবছরেও তার কাছাকাছি ধান উৎপাদন হয়েছে।
তার পরেও চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ দেখছি না। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, রাজধানীর বাজারগুলোতে ভালো মানের চিকন নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। মাঝারি ২৮ এবং পাইজম চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা। একইভাবে মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৫০ টাকা কেজিতে। যার বাজারমূল্য এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
বড় দানার মসুর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। ২০২১ সালে একই সময়ে মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা ৭০ টাকা। একইভাবে মাঝারি মানের মসুর ডাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। যা এক বছর আগের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। আর ছোট দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। যা এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে।
গতকাল শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) ৮০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা ও পেঁপের কেজি ৪০ টাকা। মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৬০-১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৯০ টাকায়।
বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। দেশী মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গরুর গোশতের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ থেকে ৬৫০ টাকা। গত সপ্তাহে গোশত বিক্রি হয়েছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি।
খাসির গোশত ৮৫০-৯৫০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছও। এ ছাড়া শিং ও টাকি মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের শোলমাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
