এইমাত্র পাওয়া

তুলে নেওয়া হচ্ছে চবি ছাত্রলীগের ১২ নেতার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চাঁদাবাজির অভিযোগে ১২ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ ১৪ জনের মামলা প্রত্যাহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার শেষ কার্যদিবসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীরা।

মামলা তুলে নিতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন চাপ ও হুমকির কথা শনিবার স্বীকার করেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতার ও প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার।

শিরীণ আখতার বলেন, ‘শেষ দিন প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা করে। তারা চাকরির পাশাপাশি এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে।’

শিরীণ আখতার আরও বলেন, ‘শেষ দিন তারা আমার ওপর যেভাবে হামলা করেছিল, আমি নিরাপত্তাহীন হয়ে চলে এসেছি। চাকরির জন্য শুধু ছাত্রলীগ নয়, স্থানীয় লোকজন ও কর্মচারী সমিতির নেতাকর্মীরা আমার সই নেওয়ার জন্য জোর করতে থাকে। শত শত নেতাকর্মী আমার অফিসে এসে হামলা করে। জোর করে তারা ১৬-১৭টা সই নিয়ে যায়। ছাত্রলীগের এক নেত্রীও আমার সঙ্গে জোর-জবরদস্তি করতে থাকে। যেসব কর্মচারীকে আমি আগে নিয়োগ দিয়েছি, তারাও সেদিন এমন করেছিল।’

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অনেক আগে থেকেই এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি ও চাপ দিচ্ছিল। শেষ দিনে তারা জোর এটি আদায় করে নিয়েছে। মামলা তুলে না নিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আরও ঝামেলা করবে। তাই আমি বাধ্য হয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছি।’

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের দুর্ঘটনা ঘিরে উপাচার্যের বাসভবন, পরিবহন দপ্তর, পুলিশ বক্স ও শিক্ষক ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মো. আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা এক হাজার জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়।

শিরীণ আখতারের নির্দেশে মামলার দুই বাদী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মো. আবদুর রাজ্জাক মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ বলেন, ‘শিরীণ আখতারের নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি আমরা।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/২৪/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.